গত সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২.৮৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে দৈনিক গড় লেনদেন ৫১ শতাংশ বেড়ে গেছে। এতে ডিএসইর বাজার মূলধন ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
মূল্যস্ফীতিতে কোম্পানির পার্থক্য:
গত সপ্তাহে ৩৯০টির মধ্যে ৩০৯ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৪১টির দাম কমেছে এবং ৩৮টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। অর্থাৎ দাম বাড়ার তুলনায় দাম কমা প্রতিষ্ঠান ৭.৫৪ গুণ কম। সপ্তাহশেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহে এটি ছিল ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। এক সপ্তাহে বাজার মূলধন বেড়েছে ৬,৩২৪ কোটি টাকা বা ০.৯২ শতাংশ।
মূল্যসূচকেও বড় উত্থান:
ডিএসইএক্স সূচক সপ্তাহজুড়ে ১৪০.৬২ পয়েন্ট বা ২.৮৪ শতাংশ বেড়েছে। তার আগে সূচক কমেছিল ৩৯.৫৬ পয়েন্ট বা ০.৭৯ শতাংশ। ডিএসই শরিয়াহ সূচক বেড়েছে ২৯.৪৯ পয়েন্ট। আগের সপ্তাহে এটি কমেছিল ১৪.৮৭ পয়েন্ট বা ১.৪৭ শতাংশ। বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক বেড়েছে ৫০.১৬ পয়েন্ট বা ২.৬২ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমেছিল ২.২২ পয়েন্ট বা ০.১২ শতাংশ।
লেনদেনের গতি বেড়েছে:
গত সপ্তাহে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৫৭৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৩৮০ কোটি ১২ লাখ টাকা। অর্থাৎ দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ১৯৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা বা ৫১.৪৮ শতাংশ।
সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ারে। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ৬২ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৩.৯৩ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার, দৈনিক লেনদেন ১৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। তৃতীয় স্থানে সিটি ব্যাংক, দৈনিক লেনদেন ১১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ফাইন ফুডস, ব্র্যাক ব্যাংক, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, লাভেলো আইসক্রিম এবং খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ।
‘জেড’ গ্রুপের দাপট:
সপ্তাহজুড়ে দাম বাড়ার শীর্ষ ১০ স্থানের মধ্যে ৮টি জায়গা দখল করেছে ‘জেড’ গ্রুপের কোম্পানি। বিনিয়োগকারীদের চাহিদার শীর্ষে ছিল ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট। কোম্পানিটি ২০১৬ সালের পর বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। গত সপ্তাহে শেয়ারের দাম বেড়েছে ৬২ শতাংশ। এক শেয়ারের দাম বেড়েছে ৩০ পয়সা।
দ্বিতীয় স্থানে প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড, শেয়ারের দাম বেড়েছে ৫৮.৯৭ শতাংশ। এক শেয়ারের দাম বেড়েছে ২৩ পয়সা। কোম্পানিটি ২০১৭ সালের পর লভ্যাংশ দেয়নি। ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ২০১৮ সালের পর লভ্যাংশ দেয়নি। শেয়ারের দাম বেড়েছে ৫৮.৫৪ শতাংশ।
এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ২০১৮ সালের পর লভ্যাংশ দেয়নি। শেয়ারের দাম বেড়েছে ৫৫.৩৬ শতাংশ। পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড ২০১৪ সালের পর লভ্যাংশ দেয়নি। শেয়ারের দাম বেড়েছে ৫৫.৩৬ শতাংশ।
প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের শেয়ারের দাম বেড়েছে ৫৩.০৬ শতাংশ। কোম্পানিটি ২০১৯ সালের পর লভ্যাংশ দেয়নি। বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ারের দাম বেড়েছে ৫১.৫২ শতাংশ। কোম্পানিটি ২০১৩ সালের পর লভ্যাংশ দেয়নি।

