শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো গ্রুপের তিনটি প্রতিষ্ঠানের গত পাঁচ বছরের আর্থিক কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখতে বিশেষ নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস এবং শাইনপুকুর সিরামিকস। ২০২০ সাল থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের হিসাব এই বিশেষ অডিটের আওতায় আসবে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কমিশনের এক সভায় এই বিশেষ নিরীক্ষার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ১০টি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো কোম্পানিগুলোর প্রকৃত আর্থিক অবস্থা, আয়ের উৎস এবং সম্ভাব্য কোনো অনিয়ম বা বিচ্যুতি রয়েছে কি না, তা নিরূপণ করা।
বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, বেক্সিমকো লিমিটেডের নিরীক্ষার জন্য বাসু ব্যানার্জি নাথ অ্যান্ড কোম্পানি, এ ওয়াহাব অ্যান্ড কোম্পানি এবং পিকেএফ আজিজ হালিম খায়ের চৌধুরীকে প্রস্তাব জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে প্যানেলভুক্ত না থাকায় পিকেএফ আজিজ হালিমের দুই পার্টনার এই নিরীক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ক্ষেত্রে চারটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে শর্টলিস্ট করা হয়েছে, এখানেও প্যানেলভুক্ত নয় এমন পার্টনারদের বাদ দিয়ে অডিট পরিচালনার শর্ত দেওয়া হয়েছে। আর শাইনপুকুর সিরামিকসের জন্য একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ ওয়াহাব অ্যান্ড কোম্পানিকে প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, বড় তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে কোনো অসংগতি বা প্রশ্ন দেখা দিলে কমিশন বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখে। বিশেষ নিরীক্ষার মাধ্যমে ব্যয়ের খাত, আয়ের প্রকৃত উৎস এবং হিসাবের স্বচ্ছতা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজনে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার পথও উন্মুক্ত থাকবে। মূলত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই গত পাঁচ অর্থবছরের হিসাব নতুন করে যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে এবং বাজারে শৃঙ্খলা জোরদারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বিএসইসি সূত্রে আরও জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট তিনটি কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে তাদের বার্ষিক ও ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদন সময়মতো দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত হিসাবসহ চলতি বছরের কোনো আর্থিক প্রতিবেদনই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেয়নি বেক্সিমকো লিমিটেড। একই ধরনের অনিয়ম বাকি দুই কোম্পানির ক্ষেত্রেও দেখা গেছে।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা এবং উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সম্প্রতি স্থগিত হওয়ায় কমিশন এখন কঠোর অবস্থান নিতে পারছে। এরই অংশ হিসেবে বকেয়া থাকা পর্ষদ সভাগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ১৫ জানুয়ারির মধ্যে বোর্ড সভা আয়োজনের জন্য কোম্পানিগুলোর পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান আর্থিক কর্মকর্তাদের কড়া বার্তা দেয় বিএসইসি।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার আশা, বিশেষ অডিটের মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা স্পষ্ট হলে বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদে ক্যাশপ্রবাহ ও লভ্যাংশ সংক্রান্ত বিষয়ে বাস্তবসম্মত ধারণা পাবেন। এতে বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে।

