দেশের পুঁজিবাজারে টানা দুই সপ্তাহ ধরে ব্যাংক খাতের শেয়ারে লেনদেন বেড়েছে। দৈনিক গড় লেনদেন শতকোটি টাকার ঘর ছাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, মোট বাজার লেনদেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এখন ব্যাংক খাতের দখলে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহের তিন কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এ ব্যাংক খাতে মোট ৩৭৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দৈনিক গড়ে লেনদেন দাঁড়িয়েছে ১২৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর আগের সপ্তাহে চার কার্যদিবসে ব্যাংক খাতে লেনদেন হয়েছিল ৫১৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। সে সময় দৈনিক গড় ছিল ১২৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। তুলনায়, এরও আগের সপ্তাহগুলোতে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৪৫ থেকে ৮৭ কোটি টাকার মধ্যে।
এই ঊর্ধ্বগতিকে বাজার বিশ্লেষকেরা কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও খেলাপি ঋণের চাপে ব্যাংক খাতের শেয়ার বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতায় ভুগছিল। তবে গত দেড় বছরে সংস্কারমূলক নানা পদক্ষেপের ফলে খাতটির প্রকৃত আর্থিক অবস্থান স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। এতে তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে থাকা ব্যাংকগুলোর প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
সূচক বিশ্লেষণেও ইতিবাচক প্রবণতা স্পষ্ট। গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক ১৬৫ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪০০ পয়েন্টে পৌঁছেছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৫ হাজার ২৩৪ পয়েন্ট। একই সময়ে ডিএস-৩০ সূচক ৫৭ দশমিক ১০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৯ পয়েন্টে। আগের সপ্তাহে তা ছিল ২ হাজার ২ পয়েন্ট। শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচকও ২৪ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৭ পয়েন্টে উঠেছে। আগের সপ্তাহে ছিল ১ হাজার ৭২ পয়েন্ট।
লেনদেনের বিস্তৃত চিত্র বলছে, গত সপ্তাহে ডিএসইতে ৩৯০টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫৩টির দর বেড়েছে, ২৯টির কমেছে এবং আটটির দর অপরিবর্তিত ছিল। ২৩টির লেনদেন হয়নি। সূচকের উত্থানে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও রেনাটা পিএলসি–এর শেয়ার।
তবে সার্বিক লেনদেনের গড়ে সামান্য চাপ দেখা গেছে। গত সপ্তাহের তিন কার্যদিবসে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৬৩৮ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আগের সপ্তাহে তা ছিল ৬৬৮ কোটি ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে ব্যাংক খাত ছিল শীর্ষে। মোট লেনদেনের ২০ দশমিক ১৬ শতাংশ এসেছে এই খাত থেকে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বস্ত্র খাতের অংশ ছিল ১৫ দশমিক ০৯ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে ওষুধ ও রসায়ন খাত, যার দখলে ছিল ১৫ দশমিক ০৬ শতাংশ। প্রকৌশল খাত ৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ নিয়ে চতুর্থ এবং সাধারণ বীমা খাত ৭ দশমিক ০৩ শতাংশ নিয়ে পঞ্চম স্থানে ছিল।
রিটার্নের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। বস্ত্র খাতে ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং ব্যাংক খাতে ৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ রিটার্ন হয়েছে।
সব মিলিয়ে ব্যাংক খাতে লেনদেনের উত্থান বাজারে আস্থার আংশিক পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এবং খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অগ্রগতি হলে এ খাতের শেয়ার আগামী দিনেও বিনিয়োগকারীদের কেন্দ্রে থাকতে পারে।

