জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিনেই পুঁজিবাজারে যে উচ্ছ্বাস দেখা গেল, তা অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আজ রোববার লেনদেন শুরু হতেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে যায়।
লেনদেনের মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে অর্ধশতাধিক কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের দাম সর্বোচ্চ সীমা, বা সার্কিট ব্রেকারে পৌঁছায়। বাজার বিশেষজ্ঞরা এটিকে ‘প্রত্যাশার বারুদ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রক্ষেপণ।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন এবং নতুন সরকারের দ্রুত নীতিগত পদক্ষেপের আশায় ক্রেতারা বাজারে ফিরে এসেছেন। নির্বাচনের আগে অনিশ্চয়তা, তারল্য সংকট এবং আস্থাহীনতার কারণে বাজার স্থবির ছিল। ফলাফলের পর বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় অবস্থান নিতে শুরু করেছেন।
লেনদেনের শুরুতেই ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা এবং বড় মূলধনী কোম্পানির শেয়ারে ক্রেতার চাপ বেশি লক্ষ্য করা গেছে। ব্রোকারেজ হাউজের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিক্রেতা কম থাকায় দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। অনেকে এটিকে ‘রিলিফ র্যালি’ বলছেন, অর্থাৎ দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটার পর স্বস্তি থেকেই এই উত্থান।
বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, টেকসই ঊর্ধ্বগতি ধরে রাখার জন্য করপোরেট আয় বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য। তবে তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংস্কার, সুদহার নীতি, ডলারবাজারের স্থিতিশীলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন সরকারের পদক্ষেপ যদি দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, তবে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্থায়ী হতে পারে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন পর বাজারে ইতিবাচক সাড়া দেখে আশাবাদী। তবে কিছু বিনিয়োগকারী দ্রুত মুনাফা তুলতে চাওয়ায় সাময়িক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
ডিএসই পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রোববার লেনদেন শুরু হতেই প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই দাম বাড়িয়েছে। সূচক লেনদেনের পাঁচ মিনিটের মধ্যে ১৫৬ পয়েন্ট বেড়ে যায়। তবে পরবর্তী সময়ে কিছু প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়ার গতি ধীর হয়। ১০টা ২০ মিনিট পর্যন্ত ৩৫২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, ১৫টির দাম কমেছে এবং ১৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এর ফলে ডিএসইএক্স সূচক ১১১ পয়েন্ট বেড়েছে। অপর দুই সূচক হলো: ডিএসই-৩০ সূচক ৪০ পয়েন্ট এবং ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক ১৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময় লেনদেন হয়েছে ২২৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১১৯ পয়েন্ট বেড়েছে। লেনদেন হয়েছে ২ কোটি ২১ লাখ টাকা। ৪৬ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৯টির দাম বাড়েছে, ৬টির দাম কমেছে এবং ১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
শেয়ারবাজারে নির্বাচনের পর এই উচ্ছ্বাস প্রমাণ করছে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটলেই বাজার কত দ্রুত প্রতিক্রিয়া দিতে সক্ষম। এখন নজর থাকবে, এই ‘প্রত্যাশার বারুদ’ কতটা স্থায়ী হবে এবং নতুন নীতিগত পদক্ষেপের ভিত্তিতে বাজারে ধারাবাহিক অগ্রগতি গড়ে উঠবে কি না।

