দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পর দেশের পুঁজিবাজারে ফিরেছে চাঙ্গাভাব। নির্বাচনের পর প্রথম কার্যদিবসেই সূচক ও লেনদেনে দেখা গেছে বড় উল্লম্ফন। বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে দিনটি শেষ হয়েছে রেকর্ড পরিসংখ্যানে।
গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন শেষ হয়। সরকার গঠনের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত হওয়ায় বাজারে আস্থা ফিরতে শুরু করে। তার প্রভাব পড়ে রোববারের লেনদেনে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এ এক দিনেই প্রধান সূচক ২০০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক উঠে যায় ১ হাজার ১২৭ পয়েন্টে। ডিএস ৩০ সূচক অবস্থান নেয় ২ হাজার ১৪৫ পয়েন্টে।
দিনভর ৩৯৪টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে ৩৬৪টির দাম বেড়েছে। কমেছে ২৬টির। অপরিবর্তিত ছিল ৪টি কোম্পানির শেয়ার।
লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ২৭৫ কোটি ৯ লাখ টাকার বেশি। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৭৯০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৪৮ শতাংশ।
বাজার মূলধনও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। দিন শেষে তা দাঁড়ায় ৭ লাখ ২১ হাজার ২৮২ কোটি টাকায়। আগের কার্যদিবসে ছিল ৭ লাখ ৮ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। ফলে এক দিনে বাজার মূলধন বেড়েছে ১২ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা।
দেশের অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ–এও একই চিত্র দেখা গেছে। সিএসসিএক্স সূচক ২৮৩ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৫৫৫ পয়েন্টে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৪৮৪ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট। অবস্থান করছে ১৫ হাজার ৫১৮ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ১৯ দশমিক ১৯ পয়েন্ট বেড়ে ৯৩৮ পয়েন্টে উঠেছে। সিএসই ৩০ সূচক ৪৯৬ দশমিক ৪১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৬৪ পয়েন্টে।
এদিন সিএসইতে ২৪৭টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২২টির দাম বেড়েছে। কমেছে ১৭টির। অপরিবর্তিত ছিল ৮টি কোম্পানির শেয়ার।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। নতুন সরকারের নীতিগত নির্দেশনার প্রত্যাশায় অনেকে আবার শেয়ার কেনায় আগ্রহী হয়েছেন। নির্বাচনের আগে কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, তারল্যসংকট ও আস্থাহীনতায় বাজার ছিল স্থবির।
ফার্স্ট ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার আল মামুন বলেন, দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটায় বিনিয়োগকারীরা আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন। আগে যারা বিনিয়োগে দ্বিধায় ছিলেন, তারাও এখন বাজারে ফিরছেন।
বিনিয়োগকারীদের এই পুনরাগমন অব্যাহত থাকলে বাজারে ইতিবাচক ধারা বজায় থাকতে পারে। সূচক, লেনদেন ও বাজার মূলধনের একযোগে উত্থান নির্বাচনের পর পুঁজিবাজারের প্রথম কার্যদিবসকে করেছে আশাব্যঞ্জক।

