ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পর ডিএসইতে (ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ) চলতি সপ্তাহের প্রথম তিন কার্যদিবসে হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। তবে, আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) লেনদেনের পরিমাণ হঠাৎ কমে ৫০০ কোটির ঘরে নেমেছে, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম।
নির্বাচনের আগে দুই কার্যদিবস এবং ভোটের পরের প্রথম কার্যদিবস শেয়ারবাজারে বেশিরভাগ শেয়ার ও ইউনিটের দরবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। বিশেষ করে নির্বাচন পরবর্তী প্রথম দিন বড় ধরনের দরউন্নতি হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী চার কার্যদিবসে অধিকাংশ শেয়ার ও ইউনিটের দরপতন ঘটেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন পূর্ববর্তী মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং পুনর্বিনিয়োগ না হওয়ায় লেনদেনের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে কমছে।
আজকের বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, লেনদেন শুরুতে সূচক কিছুটা ওঠানামা করলেও বেলা ১২টার পর থেকে টানা পতনের মধ্যে চলে। সেই সময়ে শেয়ার বিক্রির চাপ ক্রমাগত বেড়ে যায়। দিনের শেষে মাত্র ৪৬টি শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়ে হলেও ৩১৩টির দাম কমেছে এবং ৩৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৫৩ পয়েন্ট কমে ৫,৪৬৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট কমে ১,০৯৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ১২ পয়েন্ট কমে ২,০৯৮ পয়েন্টে নেমেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, কিছু বিনিয়োগকারী নির্বাচনের আগে ও পরে শেয়ার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সময় মুনাফা তুলে নেওয়ায় আজ দরপতন হয়েছে। বিশেষ করে টানা তিন কার্যদিবসের দরউন্নতির পর এই বিক্রির চাপ বেড়েছে।
লেনদেনের পরিমাণও ব্যাপকভাবে কমেছে। বৃহস্পতিবার বাজারে লেনদেন হয়েছে ৫৬০ কোটি টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৯৩৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকার তুলনায় ৩৭৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা বা ৪০.১৫ শতাংশ কম। সপ্তাহের প্রথম তিন কার্যদিবসে যথাক্রমে রোববার, সোমবার ও মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছিল ১,২৭৫ কোটি ১০ লাখ, ১,২৫৭ কোটি ৪ লাখ এবং ১,২২২ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) পরিস্থিতি একই রকম। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮০ পয়েন্ট কমে ১৫,৩৪৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ১৮২ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৬টির দাম বেড়েছে, ১১৩টির দাম কমেছে এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ১১ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ২১ কোটি ৯৭ লাখ টাকার তুলনায় কম।
রমজান মাসের কারণে ডিএসই ও সিএসইতে লেনদেনের সময় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। পরে ১টা ৪০ থেকে ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ১০ মিনিট পোস্ট ক্লোজিং সেশন থাকবে। এই সময়ে নতুন দর প্রস্তাব করা যাবে না, তবে দিনের ক্লোজিং দামে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ও ইউনিট ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবেন।

