শেয়ারবাজার দীর্ঘ পতনের পর ফের ঊর্ধ্বমুখী চিত্র দেখাচ্ছে। গতকাল সোমবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই ও সিএসই) ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বস্ত্র, তথ্যপ্রযুক্তি, বিদ্যুৎ–জ্বালানি, ওষুধ এবং মিউচুয়াল ফান্ডসহ প্রায় সব খাতের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। এ কারণে প্রধান মূল্যসূচকগুলোতে বড় উত্থান দেখা গেছে।
ডিএসইতে গতকাল দুই ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ দামে শেয়ার বিক্রি করেছে। মোটামুটি সাড়ে ৩০০ কোম্পানি দাম বাড়ার তালিকায় স্থান করেছে। ফলে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ১০০ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫৫৩ পয়েন্টে পৌঁছেছে। লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৭১৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা হয়েছে, আগের কার্যদিবসের ৫৬৮ কোটি ৮ লাখ টাকার তুলনায় ১৫০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বেড়েছে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ব্যাংক, বিমা ও অন্যান্য খাতের শেয়ার দামও বেড়েছে। সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ১৪৭ পয়েন্ট বাড়ে। বাজারে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬৬ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৭টির দাম বেড়েছে, ৪১টির দাম কমেছে এবং ১৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মোট লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ১৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকার তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস ডিএসইর প্রধান সূচক এক দিনে ২০০ পয়েন্ট বেড়ে বড় উত্থান দেখেছিল। এরপর চার কার্যদিবস টানা দরপতন হয়। চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস সূচক সামান্য বেড়েছিল, কিন্তু দাম কমার তালিকায় প্রতিষ্ঠান বেশি ছিল।
গতকাল লেনদেন শুরু হয় ব্যাংক খাতের শেয়ার দামের উত্থান দিয়ে। দিনের শেষ পর্যন্ত ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা, বস্ত্র, তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য খাতের শেয়ারের দাম বেড়ার ধারা অব্যাহত থাকে। ডিএসইতে ৩৪৭টি কোম্পানি দাম বাড়ার তালিকায় থাকলেও ২১টির দাম কমেছে এবং ২২টির দাম অপরিবর্তিত। এর মধ্যে ২৭ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার এক দিনে সর্বোচ্চ বেড়েছে।
সবচেয়ে বেশি দামের বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে– মাইডস ফাইন্যান্স, আরএসআরএম স্টিল, আলিফ মেনুফ্যাকচারিং, এনার্জিপ্যাক পাওয়ার, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, তুং হাই নিটিং, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, অ্যাপোলো ইস্পাত, বে লিজিং, নুরানি ডাইং, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স, জেনারেশন নেক্সট, জিএসপি ফাইন্যান্স, ফিনিক্স ফাইন্যান্স, পিএইচপি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, জনতা ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স, আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, পিপলস লিজিং, প্রাইম ফাইন্যান্স, এলআর গ্লোবাল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, প্রিমিয়ার লিজিং এবং ফ্যামিলি টেক্স।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৮০টির শেয়ার দাম বেড়েছে, ১৫টির দাম কমেছে এবং ৮টির দাম অপরিবর্তিত। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৭৪টি কোম্পানির শেয়ার বেড়েছে, ৩টির দাম কমেছে এবং ৩টির দাম অপরিবর্তিত। লভ্যাংশ না দেওয়ার ‘জেড’ গ্রুপের ৯৩টির দাম বেড়েছে, ৩টির দাম কমেছে এবং ১১টির দাম অপরিবর্তিত। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের ২৫টির দাম বেড়েছে, ৪টির কমেছে এবং ৫টির অপরিবর্তিত।
ডিএসইর অন্য সূচকগুলোও বাড়ার পথে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১০৬ পয়েন্টে উঠেছে। বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৩৩ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ১৩৭ পয়েন্টে পৌঁছেছে।
লেনদেনে সিটি ব্যাংক শীর্ষে, ৪৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংক ২৭ কোটি ৫৩ লাখ এবং সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট ১৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকার লেনদেনে শীর্ষ তিনে রয়েছে। অন্যান্য শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে– খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, রবি, বিডি থাই ফুড, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইস্টার্ন ব্যাংক এবং সায়হাম কটন।

