গত সপ্তাহে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) তে লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে কমপক্ষে তিনগুণ বেশি প্রতিষ্ঠান। এর ফলে ডিএসইর বাজার মূলধন ৮ হাজার কোটি টাকার ওপরে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান মূল্য সূচক ও অন্যান্য সূচকও উত্থান দেখিয়েছে। তবে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কমেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটি বাজার মূলধনের ধারাবাহিক উত্থানের দ্বিতীয় সপ্তাহ। সপ্তাহজুড়ে দাম বেড়েছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৭৪, যেখানে দাম কমেছে ৮৩টির এবং ৩২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ দাম বাড়ার তালিকায় স্থান হয়েছে ৭০.৪৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের।
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। এটি আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের ৭ লাখ ১০ হাজার ৩৭ কোটি টাকার তুলনায় ৮ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা বা ১.১৭ শতাংশ বেশি। আগের সপ্তাহে বাজার মূলধনের বৃদ্ধি ছিল মাত্র ১ হাজার ৬০ কোটি টাকা।
সূচকেও তীব্র উত্থান:
প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ১৩৪.৩৪ পয়েন্ট বা ২.৪৬ শতাংশ, যেখানে আগের সপ্তাহে বৃদ্ধি হয়েছিল ৬৫.৯৯ পয়েন্ট বা ১.২২ শতাংশ। অপর দুই সূচকও বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিএসই-৩০ সূচক, যা বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত, বেড়েছে ৭১.৫৮ পয়েন্ট বা ৩.৪১ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এটি ৩৮.৯৩ পয়েন্ট বা ১.৮৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক বেড়েছে ২১.০৯ পয়েন্ট বা ১.৯৩ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ১.৮৭ পয়েন্ট বা ০.১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল।
অন্যদিকে, লেনদেনের গতি কমেছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৭২৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ১,০৫০ কোটি ৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ গড় লেনদেন প্রতি কার্যদিবসে কমেছে ৩০.৯৭ শতাংশ।
টাকার অঙ্কে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে সিটি ব্যাংক শেয়ারের। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৬.২৬ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে আছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ (৩১ কোটি ১৫ লাখ টাকা) এবং তৃতীয় স্থানে ব্র্যাক ব্যাংক (২৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা)।
সপ্তাহজুড়ে শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছেন রবি, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, ওরিয়ন ইনফিউশন, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইস্টার্ন ব্যাংক এবং যমুনা ব্যাংক।

