গত সপ্তাহে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-তে শেয়ার ও ইউনিটের দামের উত্থান চোখে পড়ার মতো। লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে এমনটির সংখ্যা কমেছে এমনটির তুলনায় তিন গুণ বেশি। এ ধারাবাহিক বৃদ্ধিতে ডিএসইর বাজার মূলধন ৮ হাজার কোটি টাকার ওপরে গিয়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে প্রধান মূল্যসূচকও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। তবে দৈনিক গড় লেনদেন কিছুটা কমে এসেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর টানা দুই সপ্তাহ বাজার মূলধন বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ইস্যু নিয়ে সপ্তাহের শুরুতে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিশেষ করে ব্যাংক খাতের শেয়ারে জোরালো ক্রয়চাপ সূচকের উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ পুনঃতফসিল নীতি শিথিল হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে, যা মূলধন বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৭৪টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৮৩টির দাম কমেছে এবং ৩২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ দাম বেড়েছে এমন প্রতিষ্ঠানের ভাগ হয়েছে ৭০ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের ৭ লাখ ১০ হাজার ৩৭ কোটি টাকার তুলনায় ৮ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা বা ১ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়েছে। তার আগের সপ্তাহে বাজার মূলধন বৃদ্ধি পেয়েছিল ১ হাজার ৬০ কোটি টাকা।
মূল্যসূচকেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ১৩৪ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচক বাড়েছিল ৬৫ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২২ শতাংশ। অন্য সূচক ডিএসই-৩০ বেড়েছে ৭১ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ। ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিক ডিএসই শরিয়াহ সূচক বেড়েছে ২১ দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ, যা আগের সপ্তাহে ১ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট কমেছিল।
যদিও বাজার মূলধন বেড়েছে, তবু লেনদেনের গতি কমেছে। সপ্তাহের প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে ৭২৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের প্রতিদিনের গড় ১ হাজার ৫০ কোটি ৪ লাখ টাকার তুলনায় ৩২৫ কোটি ১৮ লাখ টাকা বা ৩০ দশমিক ৯৭ শতাংশ কম।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্যাংক খাতের শেয়ার সবচেয়ে বেশি লেনদেনের আধিপত্য বজায় রেখেছে। ব্যাংক খাত ডিএসইর মোট লেনদেনের ২২ দশমিক ৬৬ শতাংশ দখল করেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত (১৩ দশমিক ১৮%), তৃতীয় অবস্থানে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত (১০ দশমিক ৪০%), চতুর্থ অবস্থানে বস্ত্র খাত (৯ দশমিক ২৪%) এবং পঞ্চম অবস্থানে প্রকৌশল খাত (৭ দশমিক ১৬%)।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে তিনটি খাত ছাড়া সব খাতের শেয়ারে ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। সবচেয়ে বেশি ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৪ দশমিক ৫৬ এবং ব্যাংক খাতে ৪ দশমিক ২৪ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে। অন্যদিকে করপোরেট বন্ড খাতে ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন সবচেয়ে বেশি। জীবন বিমা খাতে ০ দশমিক ৮৫ এবং সাধারণ বিমা খাতে ০ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন হয়েছে।
টাকার অঙ্কে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে সিটি ব্যাংক-এর শেয়ারে। প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রতিদিন গড়ে ৩১ কোটি ১৫ লাখ টাকার লেনদেন। ব্র্যাক ব্যাংক তৃতীয় স্থানে, প্রতিদিন গড়ে ২৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে রবি, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, ওরিয়ন ইনফিউশন, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইস্টার্ন ব্যাংক এবং যমুনা ব্যাংক।
অন্যদিকে চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-তে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই বেড়ে ১ দশমিক ৬২ শতাংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৫৯৭ পয়েন্টে। আগের সপ্তাহে সূচক ছিল ১৫ হাজার ৩৪৯ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচক বেড়ে ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ হয়ে ৯ হাজার ৫৮৭ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৯ হাজার ৪৩০ পয়েন্ট।

