চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে ভয়াবহ পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়েছে। সোমবার লেনদেন শুরু হওয়ার মাত্র এক মিনিটে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২২৩ পয়েন্ট লম্বা ঘাটতি দেখিয়েছে। এই দ্রুত পতন শেয়ারবাজারের ইতিহাসে বিরল ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুঁজিবাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিশ্বের যেকোনো স্থানে সংঘটিত যুদ্ধ বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাব এখানে দ্রুত প্রতিফলিত হয়। অতীতেও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশের বাজারে পড়েছিল। এবারও ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলার খবর শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রভাব কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে।
সকালের ১০টায় লেনদেন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অধিকাংশ শেয়ারের দর কমতে শুরু করে। প্রথম মিনিটের রেকর্ড পতনের পর কিছু শেয়ারের দর বাড়ার কারণে সূচকের পতনের হার কিছুটা ধীর হয়ে আসে।
প্রথম ঘণ্টার লেনদেনে দেখা গেছে, মাত্র ১৯টি শেয়ারের দাম বেড়েছে, বিপরীতে ৩৫৫টির দাম কমেছে। ১৩টির দর অপরিবর্তিত রইল। এই পরিস্থিতিতে ডিএসইএক্স সূচক ৫ হাজার ৪৭৩ পয়েন্টে নেমেছে, অর্থাৎ প্রথম ঘণ্টায় ১২৮ পয়েন্টের পতন ঘটেছে। ডিএসইর অন্যান্য সূচকেও পতন দেখা গেছে; ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে, আর ডিএসই-৩০ সূচক ৪৯ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১২১ পয়েন্টে নেমেছে।
যদিও মূল্যসূচকের পতন বড়, তবু ক্রেতার উপস্থিতি ভালো দেখা গেছে। প্রথম ঘণ্টায় লেনদেন হয়েছে ৩৫১ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট, যা গত বৃহস্পতিবারের ৯৪৭ কোটি ২৮ লাখ টাকার লেনদেনের তুলনায় কম হলেও সক্রিয়। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের অপসারণ ও নতুন গভর্নরের ইতিবাচক বার্তার প্রভাবে শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা দিয়েছিল। কয়েক দিনের ধারাবাহিক উত্থানের পর এই পতন এসেছে আন্তর্জাতিক উত্তেজনার কারণে।

