ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জেরে গত রবিবার দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেলেও সোমবার (২ মার্চ) বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। ফলে মূল্যসূচকে উল্লেখযোগ্য উত্থান এসেছে এবং লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে।
রবিবার লেনদেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই ডিএসইর প্রধান সূচক ২২৩ পয়েন্ট কমে যায়। দিনের শেষ দিকে পতনের মাত্রা কিছুটা কমলেও শেষ পর্যন্ত সূচক ১৩৮ পয়েন্ট কমে দিন শেষ করে। আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছিল, যার সরাসরি প্রতিফলন দেখা যায় বাজারে।
তবে সোমবার বাজারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। লেনদেনের শুরু থেকেই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়তে থাকে এবং সেই ধারা শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। দিনশেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে ৩৪০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ৪২টির এবং ১২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি হিসেবে বিবেচিত ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭০টির শেয়ারদর বেড়েছে, ২৮টির কমেছে এবং ৮টির অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৭০টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, ৬টির কমেছে এবং ৩টির অপরিবর্তিত রয়েছে। লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ গ্রুপের ১০০টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ৮টির এবং ১টির অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৩২টির দর বেড়েছে এবং ২টির কমেছে।
সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বাড়ায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৭২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫৩৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৯ পয়েন্টে পৌঁছেছে। বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১৮ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৩৫ পয়েন্টে উঠেছে।
সূচকের পাশাপাশি লেনদেনেও গতি ফিরেছে। সোমবার ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৭৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, যেখানে আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৭৭৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ লেনদেন বেড়েছে ৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে সিটি ব্যাংক, যার ৪৬ কোটি ১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ওরিয়ন ইনফিউশনের লেনদেন হয়েছে ৪৪ কোটি ২০ লাখ টাকার এবং ব্র্যাক ব্যাংকের লেনদেন হয়েছে ৩৩ কোটি ১১ লাখ টাকার। এছাড়া খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, ব্যাংক এশিয়া, রবি, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, বেক্সিমকো ফার্মা, গ্রামীণফোন এবং ইনটেক লিমিটেডও লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষে ছিল।
দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, যার শেয়ারদর ১০ শতাংশ বা ১ টাকা ৫ পয়সা বেড়েছে। সি-পার্ল বিচ রিসোর্টের দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং এবি ব্যাংকের ৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ। এছাড়া দি প্রিমিয়ার ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক, এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন, ইউনাইটেড ফাইন্যান্স, এনআরবি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক এবং ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি করেছে।
অন্যদিকে দরপতনের শীর্ষে ছিল রহিমা ফুড করপোরেশন লিমিটেড, যার শেয়ারদর ৭ শতাংশ কমেছে। আজিজ পাইপসের দর কমেছে ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্কের ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ। এছাড়া ইনটেক, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, আইসিবি এমপ্লয়িজ ফান্ড, গ্রামীণ ওয়ান: স্কিম টু, ব্র্যাক ব্যাংক, শ্যামপুর সুগার এবং বেক্সিমকো ফার্মার দরও কমেছে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। সিএএসপিআই সূচক বেড়েছে ১৪৮ পয়েন্ট। সেখানে ১৯৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪০টির দাম বেড়েছে, ৪৪টির কমেছে এবং ১৩টির অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ১২ কোটি ৭৮ লাখ টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি।
রবিবারের বড় ধসের পর সোমবারের এই পুনরুদ্ধার বিনিয়োগকারীদের আস্থার কিছুটা প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এখনও অস্থির থাকায় বাজারের ভবিষ্যৎ গতি অনেকটাই নির্ভর করবে বৈশ্বিক উত্তেজনার ওপর।

