মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ব অর্থবাজারে অস্থিরতা আরও তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে সামরিক আগ্রাসন ঘিরে শুরু হওয়া যুদ্ধে এশিয়া, ইউরোপ থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও বড় দরপতন দেখা গেছে। সেই ধাক্কা লেগেছে দেশের শেয়ারবাজারেও। গতকাল মঙ্গলবার ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সূচক পতনের রেকর্ড হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর খবরে রোববার দেশের বাজারে বড় ধস নামে। তবে সোমবার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস ছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে টানা পতনের চিত্র দেখে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ভেঙে পড়ে। মঙ্গলবার লেনদেন শুরু হতেই বিক্রির চাপ দ্রুত বাড়তে থাকে।
সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর পর প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে একের পর এক কোম্পানির শেয়ারদর কমতে থাকে। এই প্রবণতা দিনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৫১টি কোম্পানির মধ্যে ৩১৪টির দর কমেছে। এতে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২০৯ পয়েন্ট হারিয়ে নেমে আসে ৫৩২৫ পয়েন্টে। সূচক পতনের হার ছিল প্রায় ৪ শতাংশ। এ পতন ২০২০ সালের ৯ মার্চের পর সর্বোচ্চ। ওই দিন করোনাভাইরাস মহামারির প্রাক্কালে দেশে রোগী শনাক্তের খবরে সূচক ২৭৯ পয়েন্ট বা সাড়ে ৬ শতাংশ কমেছিল।
দিনভর লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় সব খাতেই দরপতন হয়েছে। ১১৫টি কোম্পানির শেয়ার ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। ব্যাংক খাতের ৩১টি কোম্পানির গড় দরপতন ৪ শতাংশের বেশি। শুধু এই খাত থেকেই সূচক হারিয়েছে ৭৯ পয়েন্ট। বীমা খাতের ৫৮টি কোম্পানির গড় দরপতন হয়েছে ৫ শতাংশ। পাট খাতের তিনটি কোম্পানির দর কমেছে সাড়ে ৭ শতাংশ। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ১১টি কোম্পানির গড় পতন ছিল সোয়া ৬ শতাংশ।
তবে ব্যাপক দরপতনের মধ্যেও লেনদেন পুরোপুরি থেমে থাকেনি। মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মোট ৮৮৫ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের দিনের তুলনায় ১০৫ কোটি টাকা বেশি শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। বিশ্ববাজারের অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব যে দেশের পুঁজিবাজারেও পড়ছে, মঙ্গলবারের লেনদেন তারই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।

