ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে পুঁজিবাজারে চাপ সৃষ্টি করেছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারেও। যদিও দরপতনের মাত্রা আগের দিনের তুলনায় কম, তবু বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে।
গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক ও লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দিনের শুরু থেকেই বিক্রয়চাপের কারণে সূচক নিম্নমুখী থাকলেও মধ্যবর্তী সময়ে কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার চেষ্টা দেখা গেছে। শেষপর্যন্ত ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩২৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ দিন শেষে প্রায় ৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৪৫ পয়েন্টে এবং শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬২ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে।
পুঁজিবাজারে পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে গ্রামীণফোন, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি (বিএটিবিসি), ন্যাশনাল ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকের শেয়ার। ডিএসইতে গতকাল ৫৮২ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের ৮৮৫ কোটি টাকার তুলনায় কম। ৩৯৩টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে ১১২টির দর কমেছে, বেড়েছে ২২৭টির, অপরিবর্তিত ছিল ৫৪টির।
বাজার বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ এই অঞ্চলের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এ কারণে পুঁজিবাজারে দরপতন এবং লেনদেন হ্রাস দেখা গেছে।
খাতভিত্তিক লেনদেনে ব্যাংক খাত সর্বোচ্চ অবস্থান ধরে রেখেছে, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ২২ দশমিক ১ শতাংশ দখল করেছে। ওষুধ ও রসায়ন খাত ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ, বস্ত্র খাত ৮ দশমিক ৯ শতাংশ, প্রকৌশল খাত ৬ দশমিক ৯ শতাংশ এবং সেবা ও আবাসন খাত ৫ দশমিক ৭ শতাংশ লেনদেন নিয়েছে। টেলিযোগাযোগ, ওষুধ ও রসায়ন, সিমেন্ট, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক এবং চামড়া খাত ছাড়া অন্যান্য সব খাতে ইতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে।
চট্টগ্রামের আরেক পুঁজিবাজার কাতার স্টক এক্সচেঞ্জ নয়, দেশের আরেকটি প্রধান এক্সচেঞ্জ কমিলার নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স ৫৩ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ১৭৬ পয়েন্টে এবং সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই ৬৮ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ১৮ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে। ১৭০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৯৬টির দর কমেছে, বেড়েছে ৫৮টির এবং ১৬টির দর অপরিবর্তিত। সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, আগের কার্যদিবসের ২৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকার তুলনায় কম।

