ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতির প্রভাব সরাসরি পড়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত এক সপ্তাহে মূলধনের বড় ধরনের পতন হয়েছে। দাম বেড়েছে কিছু সংখ্যক শেয়ারের, কিন্তু মূল্য কমেছে এর চেয়ে অনেকগুন বেশি প্রতিষ্ঠানের।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৯২টির মধ্যে মাত্র ৫৯টির শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে ৩২৫টির দাম কমেছে এবং ৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ দাম কমার সংখ্যা বেড়েছে দাম বৃদ্ধির তুলনায় প্রায় ছয় গুণ।
সপ্তাহশেষে ডিএসইর মোট বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ২০ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা বা প্রায় ২ দশমিক ৮৪ শতাংশ কম। এ সঙ্গে প্রধান সূচকগুলোতেও উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে।
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এক সপ্তাহে ৩৫৯.৪৩ পয়েন্ট বা ৬.৪২ শতাংশ কমেছে। আগের সপ্তাহে সূচকটি বৃদ্ধি পেয়েছিল ১৩৪.৩৪ পয়েন্ট বা ২.৪৬ শতাংশ। ডিএসই-৩০ সূচক, যা শীর্ষ ৩০টি শক্তিশালী কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত করে, সপ্তাহের ব্যবধানে ১৫৭.৯৫ পয়েন্ট বা ৭.২৮ শতাংশ কমেছে। ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিক ডিএসই শরিয়াহ সূচকও ৬৭.৪৭ পয়েন্ট বা ৬.০৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
লেনদেনের গতিও কমেছে। প্রতি কার্যদিবসে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৬৯৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের ৭২৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকার তুলনায় ২৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বা ৩.৯১ শতাংশ কম। সব কোম্পানির মধ্যে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার সর্বাধিক লেনদেন করেছে। প্রতি দিন গড়ে এর লেনদেন ছিল ৪১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের প্রায় ৫.৯৮ শতাংশ।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা শেয়ারবাজারে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের কাছে সতর্ক সংকেত হিসেবে কাজ করছে।

