মুনাফায় ধসের কারণে দেশের সবচেয়ে বড় তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো এবার শেয়ারহোল্ডারদের মাত্র ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিচ্ছে। অর্থাৎ, প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে শেয়ারহোল্ডাররা ৩ টাকা পাবেন, যা কোম্পানির ইতিহাসে সর্বনিম্ন।
কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া হিসাব বছরের জন্য এই লভ্যাংশ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তথ্যটি গত মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রকাশ করা হয়েছে।
এর আগে কোম্পানি ২০২৪ সালে নগদ ৩০০ শতাংশ, ২০২৩ সালে নগদ ১০০ শতাংশ, ২০২২ সালে নগদ ২০০ শতাংশ, ২০২১ সালে নগদ ২৭৫ শতাংশ এবং ২০২০ সালে নগদ ৬০০ শতাংশ ও ২০০ শতাংশ বোনাস শেয়ার প্রদান করেছিল।
এবারের ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) হবে ৩০ এপ্রিল, এবং রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১ এপ্রিল।
গত বছর কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) ছিল মাত্র ১০ টাকা ৮০ পয়সা, যা আগের বছরের ৩২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে ৬৭ শতাংশ কমেছে।
কোম্পানি জানিয়েছে, আয় কমে যাওয়া, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং কিছু খাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বৃদ্ধির কারণে পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি মুনাফা কমার মূল কারণ।
তাছাড়া ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ঢাকার কারখানার কার্যক্রম বন্ধ করে প্ল্যান্ট, যন্ত্রপাতি ও সিগারেট উৎপাদন সরঞ্জাম সাভারের কারখানায় স্থানান্তর করা হয়েছে। কারখানা বন্ধ থাকা ও পুনর্গঠন ব্যয়ে পরিচালন মুনাফা ৭১৫ কোটি টাকা কমেছে।
সরকার লিজ নবায়ন না করায়, ঢাকার মহাখালী ডিওএইচএস থেকে কোম্পানির ষাট বছরের পুরনো সদর দপ্তর ও কারখানা আশুলিয়ায় স্থানান্তর করা হয়।
১৯৭৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ৫৪ কোটি। এর মধ্যে ৭২.৯১ শতাংশ উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৮.৭৯ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৪.৪৩ শতাংশ, বিদেশিদের কাছে ৩.২৩ শতাংশ এবং বাংলাদেশ সরকারের কাছে ০.৬৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

