মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে দেশের শেয়ারবাজারেও। টানা এক সপ্তাহের দরপতনে ঢাকার শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গত সপ্তাহজুড়ে বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। এ সময় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হওয়া প্রায় ৮১ শতাংশ শেয়ারের দর কমেছে। রোববার বড় ধরনের পতনের পর সোমবার বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। তবে সপ্তাহের শেষ তিন কর্মদিবসে আবারও পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
এক সপ্তাহে বাজারের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ কমেছে। সূচকটি ৫৬০০ পয়েন্ট থেকে নেমে ৫২৪০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বড় ও ভালো কোম্পানির শেয়ার নিয়ে তৈরি বেঞ্চমার্ক সূচকও সোয়া ৭ শতাংশের বেশি কমেছে। একই সময়ে বাজারে লেনদেনের পরিমাণও প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত বিক্রির কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারেও যুদ্ধের প্রভাবে দরপতন দেখা গেলেও সেখানে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে গত বৃহস্পতিবার বাজার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টানা নিম্নমুখী থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এতে এই পতন দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের শেয়ারবাজার মূলত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ওপর নির্ভরশীল। অন্য দেশে আতঙ্কে বিক্রি বাড়লে পরিস্থিতি সামাল দিতে বড় মিউচুয়াল ফান্ড বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এগিয়ে আসে। কিন্তু বাংলাদেশের বাজারে সেই ধরনের শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর উপস্থিতি কম। ফলে বাজারে চাপ তৈরি হলে তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইতে লেনদেনযোগ্য ৩৫৫ কোম্পানির মধ্যে ২৯১টির শেয়ারদর কমেছে। এর মধ্যে অন্তত ৫ শতাংশ করে দর হারিয়েছে ২৮১টি কোম্পানি। তালিকাভুক্ত ৩৭টি মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩৪টির দরও কমেছে।
দরপতনের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে রহিমা ফুড করপোরেশন। এক সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছে প্রায় ২৪ শতাংশ। প্রায় ২০ শতাংশ দর হারিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রগতি লাইফ। আর ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটি বাংলাদেশ) শেয়ারের দাম কমেছে ১৭ শতাংশের বেশি। আলোচিত কোম্পানিগুলোর মধ্যে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ারদর কমেছে প্রায় ১৩ শতাংশ। ব্র্যাক ব্যাংকের প্রায় ১২ শতাংশ, ইসলামী ব্যাংকের সাড়ে ১০ শতাংশ এবং লাফার্জহোলসিম সিমেন্টের দর কমেছে সোয়া ১০ শতাংশ।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাজার মূলধনে সবচেয়ে বড় খাত ব্যাংকিংয়ে লেনদেনযোগ্য ৩১টি কোম্পানির মধ্যে ২৫টির দর কমেছে। বাকি ছয়টির মধ্যে চারটির দর বাড়লেও খাতটিতে গড়ে প্রায় ৭ শতাংশ দরপতন হয়েছে। বীমা খাতেও একই চিত্র। ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে ৫৭টির শেয়ারদর কমেছে। এর মধ্যে জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর দর গড়ে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ১২ শতাংশ কমেছে। সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর দর কমেছে গড়ে সোয়া ৬ শতাংশ।
দরপতনের সঙ্গে লেনদেনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আগের সপ্তাহে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৭২৫ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল, গত সপ্তাহে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৯৬ কোটি টাকায়। আর সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে লেনদেন নেমে আসে ৪৫৯ কোটি টাকায়।

