পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের কোম্পানি এমবি ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি-এর ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনে বহির্নিরীক্ষক একাধিক দুর্বলতা এবং অসংগতি চিহ্নিত করেছেন। প্রতিবেদনে দেওয়া শর্তসাপেক্ষ মতামত (কোয়ালিফাইড ওপিনিয়ন) অনুযায়ী, কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, বিনিয়োগ প্রকাশ এবং প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিশোধে ঘাটতি দেখা গেছে।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বীকৃত প্রভিডেন্ট ফান্ডে ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৩৫৮ টাকা নিরীক্ষা বছরে পরিশোধ করা হয়নি। পাশাপাশি, বেঙ্গল মিট প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে ৫ কোটি ২৬ লাখ ৪ হাজার ৬০৩ টাকার বিনিয়োগের মধ্যে ২০১৭ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত অধিগ্রহণ করা শেয়ার পূর্ববর্তী কোনো আর্থিক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়নি। চলতি বছরে কোম্পানি রাইট শেয়ার ইস্যু করে অর্থ পরিশোধ করলেও শেয়ারগুলো এখনো ইস্যু করা হয়নি এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখানো হয়নি।
বাহ্যিক নিরীক্ষকরা উল্লেখ করেছেন, এসব বিলম্ব এবং তথ্যের অভাব আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান (আইএফআরএস) অনুযায়ী আর্থিক সম্পদ স্বীকৃতি ও মূল্যায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এছাড়া বিনিয়োগকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা না হওয়ায় ডিভিডেন্ড আয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি, ফলে বিনিয়োগ পুনরুদ্ধার ও মূল্যায়নে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
শ্রম আইন লঙ্ঘনের বিষয়েও প্রতিবেদন সতর্ক করেছে। ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড (ডব্লিইউপিপিএফ) বিতরণ যথাযথ নিয়মে করা হয়নি, তহবিলের কিছু অংশ এখনও বিতরণ হয়নি। এ কারণে শ্রম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে এবং কোম্পানির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ আছে যে, রাজস্ব স্বীকৃতি, লেনদেন, মজুত মূল্যায়ন, স্থায়ী সম্পদ ব্যবস্থাপনা, লিজ হিসাব (আইএফআরএস ১৬), স্থগিত কর দায় এবং তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা আছে।
কোম্পানির পক্ষ থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী তানজিনা ফেরদৌস জানিয়েছেন, প্রভিডেন্ট ফান্ডের বিলম্বিত পরিশোধ একটি সাময়িক প্রক্রিয়াগত কারণে ঘটেছে। তিনি বলেন, “পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নিয়মিত সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ তদারকি জোরদার করা হয়েছে।”
গত পাঁচ বছরের আর্থিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, কোম্পানির আয় ৫৯.২৩ শতাংশ কমেছে। ২০২১ সালে শেয়ারপ্রতি আয় ঋণাত্মক ৫.৪২ টাকা ছিল, যেখানে ২০২৫ সালে শেয়ারপ্রতি আয় কমে ২.২১ টাকা এবং মুনাফা ৫৩ লাখ টাকা হয়েছে।
শেয়ার মালিকানার হিসাব অনুযায়ী, উদ্যোক্তা বিনিয়োগকারীরা ৭৭.২৫%, প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ৫.৭০% এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ১৭.০৫% শেয়ার রাখছেন।
কোম্পানির চেয়ারম্যান আজিজ মোহাম্মদ ভাই অতীতে চলচ্চিত্র জগতের আলোচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি বর্তমানে সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এবং দেশের বাইরে পলাতক। সম্প্রতি তিনি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্লক মার্কেটের মাধ্যমে আলাদা কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করেছেন, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন, যদি কোম্পানি শ্রম আইন লঙ্ঘন করে বা বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য গোপন করে, কমিশন তদন্ত চালিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবে।
গত সোমবার কোম্পানির শেয়ার প্রতি দাম ৭৭৩.২০ টাকা, যা ৩.৬৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ৩০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। মোট শেয়ারসংখ্যা ২৪ লাখ।

