বিদায়ের সময় গুনছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)–এর চেয়ারম্যানসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা।
আর্থিক খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে নতুন সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী কমিশন পুনর্গঠন করা হচ্ছে, যা সংস্থাটিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের পদে থাকার সম্ভাবনা প্রায় অনিশ্চিত।
সংস্থার নতুন চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য বেশ কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে। এদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সচিব ফরিদুল ইসলাম, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ)–এর সভাপতি ও ব্র্যাক ইপিএল–এর পরিচালক সাইফুল ইসলাম, এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)–এর সাবেক সভাপতি ও লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাছির উদ্দীন চৌধুরী। অনেকেই নিজে থেকেই পদপ্রাপ্তির জন্য তদবির চালাচ্ছেন।
প্রতিবার সরকার পরিবর্তনের পরই আর্থিক খাতসহ বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। সব সরকারই এসব পদে তাদের বিশ্বস্ত ও অনুগত কর্মকর্তাদের বসাতে চায়। বর্তমান সরকারও তার ব্যতিক্রম নয়।
ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে ব্যবসায়ী মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দিয়েছে। মুখ্যসচিব, পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন পদেও ইতোমধ্যে পরিবর্তন এসেছে।
এ অবস্থায় বীমা খাত নিয়ন্ত্রক সংস্থা (আইডিআর)–এর চেয়ারম্যান আসলাম আলম নিজে থেকেই পদত্যাগ করেছেন। তবে বিএসইসির চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা পদে স্থিতিশীল আছেন এবং জানা গেছে, সরকার নিজে থেকে পদত্যাগের নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা সরে যাবেন না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইডিআরের মতো বিএসইসির শীর্ষ পদেও পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। সরকার চাইবে, যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তা থাকুক, যার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং অর্থনৈতিক নীতি সংস্থার লক্ষ্য ও নীতি সঙ্গে মানানসই। বিএসইসি ও সরকারের সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের পর প্রথম কার্যদিবসে নতুন পদায়নের ঘোষণা আসতে পারে।
একজন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, “আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পুঁজিবাজার এবং বিএসইসি নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। তাই চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন অত্যন্ত ভেবেচিন্তে করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় নিজ উদ্যোগে প্রস্তাব পাঠাতে নাও পারে; বরং সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনার অপেক্ষা থাকবে।” তিনি আরও যোগ করেছেন, “সব ঠিক থাকলে আগামী এক মাসের মধ্যে পরিবর্তন কার্যকর হতে পারে।”

