ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ায় দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন বৃদ্ধি এবং শেয়ার দর বাড়ার মধ্য দিয়ে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষ হয়েছে।
বাজার পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, দিনের শেষের দিকে ক্রেতার উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। এদিন ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে ৩০৮ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, ৩২টির দর কমেছে, এবং ৫০টির দর অপরিবর্তিত আছে।
ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৭৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫,৩৬৮ পয়েন্টে পৌঁছেছে। অন্য সূচকগুলোও ঊর্ধ্বমুখী: ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৭ পয়েন্ট বেড়ে ১,৭৯ পয়েন্টে, আর ডিএসই-৩০ সূচক ২৮ পয়েন্ট বেড়ে ২,০৬৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৫৯১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৫২৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকার তুলনায় ৬৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বেশি। লেনদেনে শীর্ষে ছিল সিটি ব্যাংক, যার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকার। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে ছিল যথাক্রমে লাভেলো আইসক্রিম (২১ কোটি ৮০ লাখ) এবং রবি (১৮ কোটি ৭৩ লাখ)।
এছাড়া লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, ওরিয়ন ইনফিউশন, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, একমি পেস্টিসাইড এবং লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ১১১ পয়েন্ট বেড়েছে। ১৭৬ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৫টির দর বেড়েছে, ৪০টির কমেছে, এবং ১১টির অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৩৯ কোটি ৭ লাখ টাকার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একটি কার্যকর ও গণতান্ত্রিক সংসদ পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তারা জানান, সংসদে জবাবদিহিতা ও নীতিগত স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ে। এর ফলে বাজারে স্থিতিশীলতা তৈরি হয় এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য প্রণোদনা সৃষ্টি হয়।

