আলোচ্য সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচক ডিএসইএক্স ২.৪৩ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৩৬৮ পয়েন্টে পৌঁছেছে। যদিও সূচক ঊর্ধ্বমুখী, দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে প্রায় ২৪ শতাংশ, যা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে।
বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের ৫ হাজার ২৪১ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ১২৭.৫৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ ৫৪.৭৪ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৬৬ পয়েন্টে ওঠেছে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএসও ৩০.৭০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৭৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৮৯টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৩২৪টির, কমেছে ৩৮টির, অপরিবর্তিত ছিল ২৭টির। লেনদেন হয়নি ২৪টির। সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ইসলামী ব্যাংক, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, সিটি ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সপ্তাহের শুরুতে গত ছয় বছরের মধ্যে একদিনে শেয়ারের দরপতন ঘটে। এতে দাম আকর্ষণীয় পর্যায়ে নেমে আসে এবং সতর্ক বিনিয়োগকারীরা পুনরায় শেয়ার কেনার সুযোগ নেন। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় সূচকে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
ডিএসইতে পাঁচ কার্যদিবসের দৈনিক গড় লেনদেন ৫৩১ কোটি ৩৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা হয়েছে, আগের সপ্তাহের ৬৯৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকার তুলনায়। এর ফলে দৈনিক গড় লেনদেন ২৩.৭১ শতাংশ কমেছে।
খাতভিত্তিক লেনদেন
গত সপ্তাহে ব্যাংক খাতের শেয়ার ডিএসইর ২০.৪৬ শতাংশ লেনদেনে আধিপত্য বজায় রেখেছে। ওষুধ ও রসায়ন খাতের অংশ ১৬.০৭ শতাংশ, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত ৯.৭৬ শতাংশ, বস্ত্র খাত ৯.২৯ শতাংশ, আর প্রকৌশল খাতের অংশ ৬.১৪ শতাংশ লেনদেনে ছিল। সব খাতের শেয়ারে ইতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি সিমেন্ট খাতে ৭.৬২ শতাংশ, তথ্যপ্রযুক্তিতে ৫.২৮ শতাংশ, জীবন বীমায় ৪.৬৫ শতাংশ, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ৩.৮ শতাংশ এবং টেলিযোগাযোগ খাতে ৩.৭৭ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের পরিস্থিতি
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূচক সিএএসপিআই ১.০৫ শতাংশ বেড়ে ১৪ হাজার ৯৮০ পয়েন্টে পৌঁছেছে। সিএসসিএক্স সূচকও ১.১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯ হাজার ১৬০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
সিএসইতে গত সপ্তাহে ১৬৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহের ১০৬ কোটি ২ লাখ টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। মোট ২৭১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৩টির, কমেছে ১০৩টির এবং ২৫টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

