দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারে শহর ও গ্রামের মধ্যে এখনো বড় ধরনের বৈষম্য রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ জরিপে উঠে এসেছে, শহরে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার যেখানে ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ, সেখানে গ্রামে এ হার মাত্র ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ। দুই এলাকার মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএস কার্যালয়ে ‘আইসিটি ব্যবহারের সুযোগ ও প্রয়োগ পরিমাপ’ শীর্ষক প্রকল্পের জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে দেশের ডিজিটাল ব্যবহারের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
জরিপ অনুযায়ী, দেশে মোট নাগরিকের ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর হার অনেক বেশি—৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে নিজস্ব মোবাইল ফোন রয়েছে মাত্র ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষের। অন্যদিকে কম্পিউটার ব্যবহারকারীর হার অত্যন্ত কম, মাত্র ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। জরিপে আরও দেখা যায়, উচ্চ ব্যয়ের কারণে ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট সেবা গ্রহণে অনাগ্রহী। এটি দেশের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির পথে বড় একটি বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আঞ্চলিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকায় ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার সবচেয়ে বেশি। আর সবচেয়ে কম ব্যবহার দেখা গেছে পঞ্চগড়ে। একইভাবে কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঢাকাই শীর্ষে, আর ঠাকুরগাঁও রয়েছে সর্বনিম্ন অবস্থানে।
ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের আচরণ ও প্রবণতা সম্পর্কেও জরিপে তথ্য পাওয়া গেছে। গত তিন মাসে ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ সরকারি চাকরিসংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান করেছেন। ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ খেলাধুলা বিষয়ক তথ্য খুঁজেছেন। পাশাপাশি ১১ দশমিক ৬ শতাংশ অনলাইনের মাধ্যমে কেনাকাটা করেছেন।
দক্ষতার দিক থেকে দেখা যায়, ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারী কপি-পেস্ট করতে পারেন। ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী সাইবার আক্রমণের পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগও উঠে এসেছে জরিপে। ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী মনে করেন, ভাইরাস ও ম্যালওয়্যারই ইন্টারনেট ব্যবহারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
সার্বিকভাবে বিবিএসের এই জরিপে স্পষ্ট হয়েছে, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রসার ঘটলেও শহর-গ্রামের বৈষম্য, উচ্চ খরচ এবং দক্ষতার ঘাটতি এখনো ডিজিটাল অগ্রগতির পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

