বিশ্বব্যাপী পিসি বাজার সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত দিলেও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে শিগগিরই এ শিল্পে মন্দার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষত: যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতির ফলে চীনের পিসি আমদানি ব্যাহত হতে পারে, যা বাজারের প্রবৃদ্ধিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে। সূত্র: টেকরাডার
বাজার গবেষণা সংস্থা আইডিসি জানিয়েছে, চলতি বছর পিসি বাজারের প্রবৃদ্ধি ৩.৭ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। সংস্থাটির গবেষণা ব্যবস্থাপক জিতেশ উবরানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতির কারণে পিসির দাম বেড়েছে, যা কম চাহিদার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বৈশ্বিক বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ক্যানালিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর পিসি বাজারে ৩.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। তবে চলতি বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (এআই) পিসির বাজার দখলের হার ৩৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যেখানে গত বছরের শেষ প্রান্তিকে এ হার ছিল ২৩ শতাংশ।
ক্যানালিসের বিশ্লেষক কিয়েরন জেসপ আইডিসির সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্য নীতির কারণে বিশ্বব্যাপী পিসি সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে করে কোম্পানিগুলোর পিসি আপগ্রেড পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হবে এবং সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যেও পিসি কেনার আগ্রহ হ্রাস পেতে পারে।
তিনি আরো জানান, ট্রাম্প প্রশাসন চীনের পিসি আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আসা বেশিরভাগ ল্যাপটপের ওপর প্রভাব ফেলবে।
এদিকে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে পিসি বাজার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বলে জানিয়েছে আইডিসি। তাদের মতে, উইন্ডোজ ১১-এর গ্রহণযোগ্যতা আশানুরূপ হারে বাড়ছে না। পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠান স্ট্যাটকাউন্টার জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৭ শতাংশ পিসিতে উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করা হয়েছে, যা বাজারে এর বিস্তারের ধীরগতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

