স্মার্টফোন ব্যাটারিতে নতুন বিপ্লব ঘটাচ্ছে সিলিকন অ্যানোড প্রযুক্তি। প্রচলিত গ্রাফাইটভিত্তিক ব্যাটারির তুলনায় এসব ব্যাটারির শক্তি ধারণক্ষমতা অনেক বেশি। ফলে ব্যবহারকারীরা পাচ্ছেন দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি ব্যাকআপ, দ্রুত চার্জিং সুবিধা এবং স্লিমার ডিভাইসের অভিজ্ঞতা।
বাজার বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৫ সালের মধ্যেই সিলিকন ব্যাটারির বাজার ৫৩ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। আগামী এক দশকে, অর্থাৎ ২০৩৪ সালের মধ্যে এ বাজারের পরিমাণ ২ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রেসিডেন্ট রিসার্চ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল স্মার্টফোনই নয়—ইলেকট্রিক গাড়ি, পোর্টেবল ডিভাইস ও গ্রিড স্টোরেজে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারির চাহিদা বাড়ায় এই প্রযুক্তির বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
সিলিকন ব্যাটারি উৎপাদনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির ব্যবহার উৎপাদন প্রক্রিয়াকে আরও দক্ষ ও সাশ্রয়ী করে তুলছে। এতে উপকরণের অপচয় কমছে, মানবিক ভুল হ্রাস পাচ্ছে এবং উৎপাদন সময় বাঁচছে।
এছাড়া মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম ব্যাটারির পাতলা স্তর কিংবা সেল অ্যাসেম্বলির ক্ষুদ্রতম ত্রুটিও শনাক্ত করতে পারে। এতে ব্যয়বহুল রি-প্রসেসিং এড়ানো সম্ভব হয় এবং বড় পরিসরে উৎপাদন সহজ হয়।
সিলিকন ব্যাটারি ছোট আকারের হলেও বেশি শক্তি ধারণ করতে পারে। ফলে এটি বেশি সময় চার্জ ধরে রাখতে পারে, যা বড় ব্যাটারির মতোই কার্যকর। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ধারণা, সামনে আসা বেশকিছু স্মার্টফোনে এই ব্যাটারির ব্যবহার দেখা যাবে।
সিলিকন-কার্বন (Si-C) ব্যাটারি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু করেছে দুই টেক জায়ান্ট স্যামসাং ও অ্যাপল। ইতোমধ্যে কিছু চীনা কোম্পানি এই প্রযুক্তি বাজারে এনেছে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে।

