জাল রেকর্ডপত্র তৈরি করে প্রায় ৯০০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ডেপুটি গভর্নর, সিকদার গ্রুপের মালিক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক ও বর্তমান শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গতকাল রোববার (৪ জানুয়ারি) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে মামলাটি অনুমোদন দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন। মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ও ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক পর্যবেক্ষক ড. মো. কবির আহাম্মদ। এছাড়া সিকদার গ্রুপের সাবেক পরিচালক মনোয়ারা সিকদার, পারভীন হক সিকদার, রন হক সিকদার এবং জন হক সিকদারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিক ও পরিচালকরা রয়েছেন।
ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের আসামিদের মধ্যে আছেন ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) আরীফ মো. শহীদুল হক। সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী মোসতাক আহমেদ। সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ ওয়াদুদ ও এ এস এম বুলবুল। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু রাশেদ নওয়াব। সাবেক সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা ব্যবস্থাপক মো. হাবিবুর রহমান।
এ ছাড়া ব্যবসায়ী কৌশিক কান্তি পন্ডিত। ক্রিস্টাল কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের এমডি সালাহ উদ্দীন খান মজলিশ ও পরিচালক আব্দুর রউফ। বেঙ্গল ও অ্যান্ড এম সার্ভিসেসের মালিক জন হক সিকদার। মেসার্স মাহবুব এন্টারপ্রাইজের মালিক সৈয়দ মাহবুব-ই-করিম। সিকোটেক হোল্ডিংস লিমিটেডের এমডি মো. মাহফুজুর রহমান ও পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম। টেক ইন্টেলিজেন্স লিমিটেডের এমডি মো. জামিল হুসাইন মজুমদার। এম এস কন্সট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপার্সের মালিক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন। জুপিটার বিজনেস লিমিটেডের এমডি মমতাজুর রহমান ও পরিচালক মোসফেকুর রহমান।
দুদক সূত্র জানায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে ভুয়া ওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট দাখিল করে ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে ৬০০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন ও উত্তোলন করা হয়। পরে ওই অর্থ নগদ, পে-অর্ডার ও ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে স্থানান্তর, রূপান্তর এবং হস্তান্তর করে আত্মসাৎ করা হয়।
ঋণের মূল অর্থ পরিশোধ না করায় ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুদ ও অন্যান্য চার্জ মিলিয়ে ব্যাংকের প্রাপ্য দাঁড়ায় ৩০৩ কোটি ৬৭ লাখ ২ হাজার ৬২১ টাকা ২০ পয়সা। এতে ন্যাশনাল ব্যাংকের মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ হয় ৯০৩ কোটি ৬৭ লাখ ২ হাজার ৬২১ টাকা।
এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারাও প্রযোজ্য হবে।

