আইনজীবীর সনদ আছে, কিন্তু তিনি কি নিয়মিত আইন পেশায় যুক্ত? আদালতে মক্কেলের পক্ষে দাঁড়ানোর পাশাপাশি কেউ যদি পূর্ণকালীন চাকরি করেন, ব্যবসা পরিচালনা করেন কিংবা অন্য কোনো লাভজনক পেশায় যুক্ত থাকেন, তাহলে তাঁর পেশাগত অবস্থান কী হবে? তিনি কি একই সঙ্গে সক্রিয় আইনজীবীর পরিচয় ও সব অধিকার ভোগ করতে পারবেন? আর এ প্রশ্নে আইন ও আচরণবিধি থাকলে তা কার্যকর করার দায়িত্ব কার?
বাংলাদেশে আইনজীবীদের দ্বৈত পেশা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তবে ২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর হাইকোর্টে দায়ের করা একটি রিট বিষয়টিকে আবারও সামনে এনেছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া আইন পেশার সনদ রেখে অন্য পেশায় যুক্ত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন নিষ্পত্তিতে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে তিনি ২০১৯ সালের ২ ডিসেম্বর ও ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি বার কাউন্সিলে আবেদন করেছিলেন। পরে আইনি নোটিশ দিয়েও প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হন।
রিটে উত্থাপিত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। আদালতের চূড়ান্ত আদেশও প্রকাশ্য নথিতে যাচাই করা প্রয়োজন। কিন্তু ঘটনাটি একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে এনেছে: বার কাউন্সিলের আচরণবিধিতে অন্য পেশা নিয়ে নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সেই নির্দেশনার বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে হবে, তা কি যথেষ্ট স্পষ্ট?
বিষয়টি কয়েকজন আইনজীবীর পেশা নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত মক্কেলের স্বার্থ, আদালতের প্রতি দায়বদ্ধতা, আইন পেশার স্বাধীনতা, পেশাগত প্রতিনিধিত্ব এবং বার কাউন্সিলের জবাবদিহিতা। বাংলাদেশের আইন, ভারতের তুলনামূলক বিধান ও বিচারিক নজির এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজন—সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি নতুন করে বিশ্লেষণের দাবি রাখে।
বাংলাদেশের আইনে কী আছে: নিষেধাজ্ঞা, নাকি কেবল নির্দেশনা?
বাংলাদেশের আইনজীবীদের পেশাগত অবস্থান নিয়ন্ত্রণের প্রধান আইনি ভিত্তি হলো The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এবং এর অধীনে প্রণীত বিধিমালা ও পেশাগত আচরণবিধি।
১৯৭২ সালের আদেশের ১০ অনুচ্ছেদে বার কাউন্সিলের কার্যাবলি ও দায়িত্ব, ১৯ অনুচ্ছেদে আইন পেশা পরিচালনার অধিকার, ২৭ অনুচ্ছেদে তালিকাভুক্তির যোগ্যতা এবং ৩২ অনুচ্ছেদে পেশাগত অসদাচরণসংক্রান্ত শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থার কাঠামো রয়েছে।
তবে দ্বৈত পেশার প্রশ্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হলো বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের Canons of Professional Conduct and Etiquette বা আইনজীবীদের পেশাগত আচরণবিধি।
এর চতুর্থ অধ্যায়ের ৮ নম্বর বিধানে বলা হয়েছে:
“An Advocate should not as a general rule carry on any other profession or business, or be an active partner in or a salaried official or servant in connection with any such profession or business.”
সহজ ভাষায়, সাধারণ নিয়ম হিসেবে একজন আইনজীবীর অন্য কোনো পেশা বা ব্যবসা পরিচালনা করা, তাতে সক্রিয় অংশীদার হওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বেতনভুক্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারী হিসেবে কাজ করা উচিত নয়।
এখানে “should not as a general rule” শব্দবন্ধটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি পেশাগত আচরণের একটি সাধারণ নিয়ম নির্দেশ করে। কিন্তু বিধানটির ভাষা থেকে সব ধরনের অন্য পেশাকে নিঃশর্তভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত সরাসরি টানা যায় না। আবার শব্দগুলো তুলনামূলক নমনীয় বলে বিধানটি অকার্যকর বা উপেক্ষাযোগ্য, সেটিও বলা যায় না।
সমস্যাটি নিষেধাজ্ঞা আছে কি নেই, শুধু তা নয়; কোন পরিস্থিতিতে বিধানটি বাধ্যতামূলকভাবে প্রয়োগ হবে, ব্যতিক্রম কী এবং লঙ্ঘনের পরিণতি কী—এসব প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর কতটা রয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পেশাগত আচরণবিধি
নিয়ম যদি থাকে কিন্তু তার প্রয়োগের কাঠামো অস্পষ্ট থাকে, তাহলে পেশাগত শৃঙ্খলা কাগজে সীমাবদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। আর আইন পেশার নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানই যদি নিজের বিধির কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে কে?
সব দ্বৈত পেশা কি একই ধরনের?
এই বিতর্কের একটি মৌলিক দুর্বলতা হলো, ভিন্ন ভিন্ন পেশাগত অবস্থাকে প্রায়ই একই শ্রেণিতে বিবেচনা করা হয়।
একজন আইনজীবী পূর্ণকালীন বেসরকারি চাকরি করছেন। অন্যজন ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তৃতীয়জন একটি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। চতুর্থজন কোনো প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী দায়িত্বহীন পরিচালক। পঞ্চমজন কেবল শেয়ারের মালিক। আবার কেউ আইন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন কিংবা আইনবিষয়ক গবেষণা ও লেখালেখি করছেন।
এই অবস্থাগুলোর পেশাগত ঝুঁকি ও আইনি তাৎপর্য এক নয়।
পূর্ণকালীন চাকরিতে নিয়োগকর্তার প্রতি দায়বদ্ধতা, কর্মঘণ্টা এবং আদালতে নিয়মিত উপস্থিতির সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসার সক্রিয় ব্যবস্থাপনায় আর্থিক স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে। কোম্পানির নির্বাহী পদে থাকলে প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক স্বার্থ ও মক্কেলের স্বার্থের মধ্যে বিরোধ দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগ বা আইন শিক্ষার মতো কাজের ক্ষেত্রে আলাদা বিবেচনা প্রয়োজন হতে পারে।
তাই দ্বৈত পেশা নিয়ে নীতি নির্ধারণ করতে হলে প্রথমে পেশাগুলোর শ্রেণিবিন্যাস জরুরি। কোন কাজ নিষিদ্ধ, কোনটি শর্তসাপেক্ষে অনুমোদনযোগ্য এবং কোন ক্ষেত্রে আইন পেশার সক্রিয় অধিকার স্থগিত রাখতে হবে—তা স্পষ্ট না হলে বিধি প্রয়োগে অসংগতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।
ভারতের বিধান: একই প্রশ্নে আরও স্পষ্ট কাঠামো
তুলনামূলক আলোচনায় ভারতের Advocates Act, 1961 এবং Bar Council of India Rules বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
Advocates Act,1961 এর ৪৯(১) ধারায় বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়াকে পেশাগত আচরণবিধি ও অন্যান্য বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই ক্ষমতার অধীনে বিধিমালার ষষ্ঠ অংশের দ্বিতীয় অধ্যায়ে আইনজীবীদের অন্য পেশায় যুক্ত থাকার বিষয়ে একাধিক পৃথক বিধান রয়েছে।
বিধি ৪৭: সাধারণভাবে আইনজীবী নিজে অন্য ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন না। তবে নির্দিষ্ট শর্তে নিষ্ক্রিয় অংশীদার থাকার সুযোগ রয়েছে।
বিধি ৪৮: কোম্পানির পরিচালকের পদে থাকার বিষয়টি নির্বাহী দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত করে বিবেচনা করা হয়। ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা সচিবের মতো নির্বাহী দায়িত্বের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে।
বিধি ৪৯: পূর্ণকালীন বেতনভুক্ত চাকরিতে থাকা অবস্থায় সক্রিয়ভাবে আইন পেশা পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ধরনের চাকরি গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট বার কাউন্সিলকে জানানোর বিধান এবং চাকরিতে থাকা অবস্থায় ওকালতি বন্ধ রাখার শর্তও রয়েছে।
বিধি ৫১: আইনবিষয়ক লেখা, শিক্ষকতা, সম্প্রচার ও নির্দিষ্ট কিছু কাজের ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষ সুযোগ রয়েছে। এগুলোকে সব ধরনের চাকরি বা ব্যবসার সাধারণ অনুমতি হিসেবে দেখা যায় না।
ভারতের বিধানগুলোর গুরুত্ব হলো, সেখানে অন্য পেশা নিয়ে একটি সাধারণ নীতি থাকার পাশাপাশি পেশার ধরন অনুযায়ী পৃথক নিয়মও রয়েছে।
বাংলাদেশে এই কাঠামো থেকে শিক্ষা নেওয়া যেতে পারে। তবে ভারতীয় বিধি বাংলাদেশের আইনজীবীদের ওপর সরাসরি প্রযোজ্য নয়। বাংলাদেশের নিজস্ব আইন ও বিধির ভিত্তিতেই বিধিনিষেধের বৈধতা এবং শাস্তির প্রশ্ন নির্ধারণ করতে হবে।
এক্ষেত্রে ভারতের কয়েকটি মামলার ব্যাখ্যা করা হলো যাতে বিষয়টি আরো বিস্তারিত বোঝা যায়।
চুলানি মামলা: আইন পেশা কি পূর্ণকালীন অঙ্গীকার?
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের Dr. Haniraj L. Chulani v. Bar Council of Maharashtra & Goa মামলাটি দ্বৈত পেশার আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক নজির।
মামলাটির রেফারেন্স: (1996) 3 SCC 342। রায় দেওয়া হয় ৮ এপ্রিল ১৯৯৬।
মামলার আবেদনকারী ছিলেন একজন চিকিৎসক, যিনি চিকিৎসা পেশা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আইনজীবী হিসেবেও তালিকাভুক্ত হতে চেয়েছিলেন। মহারাষ্ট্র ও গোয়া বার কাউন্সিল তাঁর তালিকাভুক্তির আবেদন গ্রহণ করেনি। প্রশ্ন ওঠে, অন্য একটি পেশায় যুক্ত থাকার কারণে কাউকে আইন পেশায় প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া আইনসঙ্গত কি না।
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বার কাউন্সিলের বিধিনিষেধ বহাল রাখে। আদালত বিবেচনা করে, আইন পেশায় কারা প্রবেশ করতে পারবেন, সে বিষয়ে প্রযোজ্য আইন ও বিধির অধীনে বার কাউন্সিলের পেশাগত যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষমতা রয়েছে। একই সঙ্গে আদালত আইন পেশার বিশেষ দায়িত্ব ও পূর্ণকালীন অঙ্গীকারের গুরুত্ব তুলে ধরে।
এই রায়ের তাৎপর্য হলো, আইন পেশায় প্রবেশের অধিকার থাকলেই অন্য একটি পূর্ণাঙ্গ পেশা একই সঙ্গে চালিয়ে যাওয়ার অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয় না।
তবে এই মামলাটি ভারতে তালিকাভুক্তির যোগ্যতা নিয়ে ছিল। বাংলাদেশের প্রতিটি দ্বৈত পেশার অভিযোগে এর সিদ্ধান্ত সরাসরি প্রয়োগ করা যাবে না। বাংলাদেশের আচরণবিধির ভাষা, সংশ্লিষ্ট বিধান এবং প্রযোজ্য শৃঙ্খলামূলক প্রক্রিয়া আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।
২০২৬ সালের টি. এম. মঞ্জু মামলা: পেশাগত নিবন্ধনও কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ভারতের কেরালা হাইকোর্টের T.M. Manju v. Bar Council of Kerala মামলাটি তুলনামূলক আলোচনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
এই মামলায় আবেদনকারী আগে থেকেই নিবন্ধিত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ছিলেন। আইন ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে আবেদন করেন। কিন্তু চিকিৎসা পেশায় তাঁর নিবন্ধন বহাল থাকায় বার কাউন্সিল নিবন্ধন বাতিলের সনদ চায়। তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।
কেরালা হাইকোর্টের একক বেঞ্চ ১৮ মে ২০২৬ আবেদনটি খারিজ করে। পরে ডিভিশন বেঞ্চও ১৭ জুন ২০২৬ আপিল খারিজ করে দেয়।
আদালতের বিবেচনায়, আবেদনকারী চিকিৎসা পেশায় বাস্তবে কতটা সময় দিচ্ছেন, সেটি একমাত্র প্রশ্ন ছিল না। তাঁর পেশাগত নিবন্ধন বহাল থাকায় তিনি ওই পেশায় কাজ করার অধিকারও ধরে রেখেছিলেন। প্রযোজ্য বিধি ও চিকিৎসা পেশার আইন একসঙ্গে বিবেচনা করে আদালত নিবন্ধন বাতিলের শর্তকে বৈধ বলে বহাল রাখে।
এই মামলার শিক্ষা হলো, পেশাগত দ্বৈততার প্রশ্নে কেবল কেউ বাস্তবে প্রতিদিন কী কাজ করছেন, তা দেখলেই সব সময় যথেষ্ট হয় না। তাঁর অন্য পেশায় আইনগতভাবে বহাল থাকা অধিকার ও নিবন্ধনের অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তবে এখানে একটি সতর্কতা আছে। মামলাটি ভারতের নির্দিষ্ট রাজ্যের চিকিৎসা ও আইন পেশার বিধান নিয়ে। তাই বাংলাদেশের আইনজীবীদের ব্যবসা, চাকরি বা কোম্পানির পদে থাকার প্রতিটি প্রশ্নে এই সিদ্ধান্তকে একমাত্র মানদণ্ড করা যাবে না।
দ্বৈত পেশার প্রভাব: মক্কেল থেকে বিচারক নিয়োগ পর্যন্ত
দ্বৈত পেশার প্রশ্নকে কেবল আইনজীবীর ব্যক্তিগত পেশা নির্বাচনের বিষয় হিসেবে দেখলে এর প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব আড়ালে থেকে যায়।
মক্কেলের অধিকার ও আদালতে উপস্থিতি
পূর্ণকালীন চাকরি বা সক্রিয় ব্যবসার পাশাপাশি কেউ নিয়মিত মামলা পরিচালনার দায়িত্ব নিলে তাঁর প্রস্তুতি, সময় ব্যবস্থাপনা এবং আদালতে উপস্থিতির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। মক্কেল অর্থ ব্যয় করে আইনজীবীর পেশাগত সেবা গ্রহণ করেন। সেই সেবা যথাযথভাবে দেওয়া হচ্ছে কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে অন্য পেশায় যুক্ত প্রত্যেক আইনজীবী অদক্ষ বা দায়িত্বহীন, এমন সাধারণীকরণ গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশ্নটি হলো, পেশাগত বিধি মানা হচ্ছে কি না এবং মক্কেলের স্বার্থ যথাযথভাবে রক্ষা করা হচ্ছে কি না।
স্বার্থের সংঘাত ও পেশাগত স্বাধীনতা
একজন আইনজীবী যদি এমন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, যার বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করেন, অথবা তাঁর ব্যবসায়িক স্বার্থ মক্কেলের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে পেশাগত নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
আইন পেশার স্বাধীনতা শুধু আদালতে দাঁড়ানোর স্বাধীনতা নয়; এটি মক্কেলের স্বার্থকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া, গোপনীয়তা রক্ষা এবং স্বার্থের সংঘাত এড়ানোর দায়িত্বের সঙ্গেও সম্পর্কিত।
পেশাগত প্রতিনিধিত্ব ও ভোটার তালিকা
বার কাউন্সিলের নির্বাচনে কে সক্রিয় আইনজীবী, কে পেশা পরিবর্তন করেছেন এবং কার পেশাগত অবস্থা কী—এসব তথ্য হালনাগাদ থাকা জরুরি। অন্যথায় ভোটার তালিকার প্রতিনিধিত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
এ বিষয়ে মিজানুর রহমান খানের ২০১৫ সালের ‘বার কাউন্সিলের সংস্কার দরকার’ শীর্ষক প্রথম আলোর একটি কলামে নিষ্ক্রিয় আইনজীবী, ভোটার তালিকা, পেশাগত সক্রিয়তা এবং বার কাউন্সিলের জবাবদিহিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।
সেই কলামে মিঃ খান আইনজীবীদের বার্ষিক পেশাগত ঘোষণা, তালিকা হালনাগাদ, সক্রিয়তার তথ্য যাচাই এবং এক ব্যক্তি এক ভোটের নীতির মতো প্রস্তাব আলোচিত হয়। অর্থাৎ দ্বৈত পেশা ও নিষ্ক্রিয় সদস্যের প্রশ্নটি শুধু আচরণবিধি লঙ্ঘনের সম্ভাবনা নয়; এটি বার কাউন্সিলের প্রতিনিধিত্বমূলক কাঠামোর সঙ্গেও সম্পর্কিত।
মক্কেলের স্বার্থ, আদালতের প্রতি দায়বদ্ধতা, আইন পেশার স্বাধীনতা, পেশাগত প্রতিনিধিত্ব এবং বার কাউন্সিলের জবাবদিহিতা। বাংলাদেশের আইন, ভারতের তুলনামূলক বিধান ও বিচারিক নজির এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজন
বিচারক নিয়োগের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার হিসাব
বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৫(২)(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্যতার একটি শর্ত হলো অন্তত দশ বছর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা, অথবা নির্ধারিত সময় বিচার বিভাগীয় পদে অধিষ্ঠিত থাকা।
এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে, কেবল আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকা আর বাস্তবে আইন পেশায় সক্রিয়ভাবে কাজ করার মধ্যে পার্থক্য কীভাবে নির্ধারণ করা হবে? দ্বৈত পেশা বা দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার বিষয়টি অভিজ্ঞতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কীভাবে বিবেচিত হবে?
এ বিষয়ে নির্দিষ্ট আইনি ব্যাখ্যা ও বিচারিক অবস্থান যাচাই করা জরুরি। শুধু দ্বৈত পেশায় যুক্ত থাকার কারণে কারও বিচারক হওয়ার যোগ্যতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নষ্ট হয়—এমন দাবি ও করা যাবে না। তবে পেশাগত অভিজ্ঞতার হিসাব স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য হওয়া যে জরুরি, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
বার কাউন্সিলের নীরবতা: অভিযোগের চেয়ে বড় প্রশ্ন প্রক্রিয়ার
রিটকারী আইনজীবীর (এড. ফরহাদ হোসেন) বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ২০১৯ ও ২০২৩ সালে আবেদন করার পরও কার্যকর প্রতিকার পাননি। এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট আবেদন, প্রাপ্তিস্বীকার, বার কাউন্সিলের নথি এবং কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
কিন্তু অভিযোগটি সত্য হলে বিষয়টি কেবল দ্বৈত পেশায় যুক্ত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তখন প্রশ্ন উঠবে, একটি নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত, শুনানি ও নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা কতটা রয়েছে।
বার কাউন্সিলের ১৯৭২ সালের আদেশে পেশাগত অসদাচরণের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কাঠামো রয়েছে। ফলে অভিযোগ এলেই কাউকে দোষী ঘোষণা করা যেমন যাবে না, তেমনি অভিযোগ বছরের পর বছর অনিষ্পন্ন রাখাও জবাবদিহিতার প্রশ্ন এড়াতে পারে না।
এখানে দুটি বিষয় আলাদা:
- অভিযোগের বিচার: প্রমাণ সংগ্রহ, অভিযুক্তের বক্তব্য শোনা এবং আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া।
- প্রশাসনিক জবাবদিহিতা: আবেদন গ্রহণ, তদন্তের অগ্রগতি জানানো এবং যুক্তিসংগত সময়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া।
প্রথমটি ন্যায়বিচারের জন্য, দ্বিতীয়টি প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য অপরিহার্য।
বার কাউন্সিল বর্তমানে একটি অ্যাডহক কমিটির অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। কমিটির বৈধতা ও নির্বাচন নিয়ে পৃথক রিটের খবর ও রয়েছে। তবে এসব বিষয় দ্বৈত পেশা-সংক্রান্ত রিটের আইনগত ফলাফল নির্ধারণ করে না। এগুলো কেবল প্রতিষ্ঠানের শাসন, প্রতিনিধিত্ব ও সংস্কারের বৃহত্তর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে।
সংস্কার কীভাবে হবে: নিষেধাজ্ঞা নয়, কার্যকর ব্যবস্থা
বাংলাদেশে দ্বৈত পেশা নিয়ন্ত্রণের জন্য ভারতের বিধান অনুকরণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। বাংলাদেশের আইনের ভাষা, পেশাগত বাস্তবতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং সাংবিধানিক অধিকার বিবেচনায় নিয়ে একটি স্বচ্ছ কাঠামো তৈরি করতে হবে।
পেশার ধরন অনুযায়ী পৃথক বিধান: পূর্ণকালীন চাকরি, সক্রিয় ব্যবসা পরিচালনা, নির্বাহী পদ, নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগ, আইন শিক্ষকতা ও আইনবিষয়ক লেখালেখির জন্য পৃথক নিয়ম প্রণয়ন করা উচিত।
চাকরি বা ব্যবসা গ্রহণের ঘোষণা: আইনজীবী অন্য পেশায় যুক্ত হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বার কাউন্সিলকে জানানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। কোন ধরনের কাজের ক্ষেত্রে এই ঘোষণা বাধ্যতামূলক হবে, তা বিধিতে স্পষ্ট থাকতে হবে।
সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় আইনজীবীর হালনাগাদ তালিকা: প্রতি বছর আইনজীবীদের পেশাগত অবস্থা যাচাই করা উচিত। তবে কেবল মামলা পরিচালনার সংখ্যা দিয়ে সক্রিয়তা নির্ধারণ করা যাবে না। আইনি পরামর্শ, করপোরেট কাজ, সাংবিধানিক মামলা ও অন্যান্য বৈধ পেশাগত কার্যক্রমও বিবেচনায় নিতে হবে।
অভিযোগ নিষ্পত্তির সময়সীমা: অভিযোগ গ্রহণ, প্রাথমিক যাচাই, শুনানি এবং সিদ্ধান্তের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা উচিত। অভিযোগকারীকে আবেদনটির অগ্রগতি জানাতে হবে এবং সিদ্ধান্তের কারণ লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
স্বার্থের সংঘাত প্রকাশ: আইনজীবীর অন্য পেশা বা ব্যবসায়িক স্বার্থের কারণে মক্কেলের সঙ্গে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হলে তা প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত। এতে পেশাগত স্বাধীনতা ও মক্কেলের আস্থা রক্ষা করা সহজ হবে।
শৃঙ্খলামূলক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা: কোন বিধি লঙ্ঘনের জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা প্রকাশ্য নীতিমালায় নির্ধারণ করা উচিত। ব্যক্তিগত তথ্য ও ন্যায্য শুনানির অধিকার রক্ষা করে প্রাসঙ্গিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ করলে একই ধরনের অভিযোগে অসংগতি কমবে।
শাস্তির আগে ন্যায্য প্রক্রিয়া: অভিযোগ উঠলেই সনদ বাতিল করা যাবে না। প্রথমে অভিযোগ যাচাই, নোটিশ, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং প্রযোজ্য বিধি অনুসারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। লঙ্ঘনের ধরন অনুযায়ী সতর্কতা, সনদ স্থগিত বা অন্য শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা বিবেচনা করা যেতে পারে। সনদ বাতিলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনের শর্ত কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
আইন ও আচরণবিধির অস্পষ্টতা দূর করা: বার কাউন্সিলের উচিত প্রকাশ্য ব্যাখ্যা ও নির্দেশিকা দিয়ে স্পষ্ট করা—কোন ধরনের দ্বৈত পেশা নিষিদ্ধ, কোনটি শর্তসাপেক্ষে অনুমোদনযোগ্য এবং কোন পরিস্থিতিতে আইন পেশার সক্রিয় অধিকার স্থগিত রাখতে হবে।
এসব পরিবর্তনের জন্য কেবল আচরণবিধি সংশোধন যথেষ্ট হবে, নাকি ১৯৭২ সালের আদেশেও সংশোধন প্রয়োজন, তা আইনজ্ঞদের মাধ্যমে নির্ধারণ করা জরুরি।
সাংবিধানিক ভারসাম্য: পেশার স্বাধীনতা বনাম পেশাগত শৃঙ্খলা
বাংলাদেশের সংবিধানের ৪০ অনুচ্ছেদে আইনসঙ্গত পেশা বা বৃত্তি গ্রহণের স্বাধীনতা স্বীকৃত হয়েছে, যা আইন দ্বারা আরোপিত বিধিনিষেধের অধীন। তাই আইনজীবীর অন্য পেশায় যুক্ত থাকার অধিকার নিয়ন্ত্রণ করতে হলে বিধিনিষেধের আইনগত ভিত্তি, উদ্দেশ্য এবং প্রয়োগের ন্যায্যতা বিবেচনা করতে হবে।
ভারতের চুলানি মামলায় পেশাগত বিধিনিষেধ বহাল থাকলেও সেই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য বাধ্যতামূলক নজির নয়। বাংলাদেশের আদালতকে বাংলাদেশের আইন ও সংবিধানের ভিত্তিতেই প্রশ্নটির বিচার করতে হবে।
একইভাবে, পেশাগত স্বাধীনতার কথা বলে আইনজীবীদের আচরণবিধি অগ্রাহ্য করা যায় না। আবার পেশাগত শৃঙ্খলার নামে প্রমাণ ছাড়া কাউকে শাস্তি দেওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়।
সঠিক সংস্কার হলো এমন একটি কাঠামো, যেখানে পেশাগত স্বাধীনতা থাকবে, কিন্তু সেই স্বাধীনতা মক্কেলের অধিকার, আদালতের প্রতি দায়বদ্ধতা ও নৈতিকতার প্রশ্নে জবাবদিহিতার বাইরে থাকবে না।
যে বিষয় গুলোর উত্তর জরুরি
দ্বৈত পেশা নিয়ে বিতর্ককে ব্যক্তি-আক্রমণ বা পেশাগত বিরোধের পর্যায়ে আটকে না রেখে সংস্কারের আলোচনায় নিতে হলে কয়েকটি প্রশ্নের নথিভিত্তিক উত্তর দরকার:
- ২০১৯ ও ২০২৩ সালে দাখিল করা আবেদনগুলোর বর্তমান অবস্থা কী?
- পূর্ণকালীন চাকরি বা ব্যবসায় যুক্ত আইনজীবীদের পেশাগত অবস্থা যাচাইয়ের জন্য বার কাউন্সিলের কী ব্যবস্থা রয়েছে?
- দ্বৈত পেশার অভিযোগ গড়ে কত দিনে নিষ্পত্তি হয়?
- সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় আইনজীবী শনাক্ত করার প্রকাশ্য মানদণ্ড আছে কি?
- আচরণবিধি লঙ্ঘন প্রমাণিত হলে কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়?
- “As a general rule” কথাটির কোন কোন ব্যতিক্রম বার কাউন্সিল স্বীকৃতি দেয় এবং তার আইনি ভিত্তি কী?
- পেশাগত অবস্থার পরিবর্তন হলে আইনজীবীদের তা জানানোর বাধ্যবাধকতা আছে কি?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রকাশ করা গেলে আইনজীবী, মক্কেল, আদালত ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়বে। একই সঙ্গে বোঝা যাবে, সমস্যাটি মূলত আইনের ঘাটতি, বিধির অস্পষ্টতা, নাকি প্রয়োগের ব্যর্থতা।
সনদ থাকলেই কি পেশাগত দায়িত্ব শেষ?
আইনজীবীর সনদ কেবল একটি পেশাগত পরিচয় নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে মক্কেলের আস্থা, আদালতের প্রতি দায়িত্ব, আইনের শাসন এবং পেশাগত নৈতিকতা। তাই সনদ ধরে রেখে অন্য পেশায় যুক্ত থাকার প্রশ্নে সুস্পষ্ট নিয়ম, কার্যকর তদারকি এবং নিরপেক্ষ শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা থাকা জরুরি।
কিন্তু সমাধান নির্বিচারে সনদ বাতিলও নয়। অভিযোগ প্রমাণ ছাড়া কাউকে অসৎ ঘোষণা করা, ভিন্ন পেশাগত অবস্থাকে একইভাবে বিচার করা কিংবা শৃঙ্খলামূলক ক্ষমতাকে ব্যক্তিগত বিরোধের হাতিয়ার বানানোও গ্রহণযোগ্য নয়।
ভারতের অভিজ্ঞতা দেখায়, পেশাগত স্বাধীনতা ও পেশাগত শৃঙ্খলার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে স্পষ্ট বিধান এবং প্রয়োগের কার্যকর ব্যবস্থা দরকার। বাংলাদেশের জন্যও একই শিক্ষা প্রাসঙ্গিক, তবে তা বাস্তবায়ন করতে হবে দেশের নিজস্ব আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে।
বার কাউন্সিলের কাছে তাই প্রত্যাশা শুধু দ্বৈত পেশায় যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া নয়; বরং একটি স্বচ্ছ, হালনাগাদ ও জবাবদিহিমূলক পেশাগত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। কে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত, কে সক্রিয়ভাবে পেশা পরিচালনা করছেন, কে অন্য পেশায় যুক্ত এবং কোন বিধান তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর থাকতে হবে।
কারণ, নিয়ম যদি থাকে কিন্তু তার প্রয়োগের কাঠামো অস্পষ্ট থাকে, তাহলে পেশাগত শৃঙ্খলা কাগজে সীমাবদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। আর আইন পেশার নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানই যদি নিজের বিধির কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে কে?
এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মধ্যেই বাংলাদেশ বার কাউন্সিল সংস্কারের প্রকৃত প্রয়োজন নিহিত।
- মিজানুর রহমান রুবেল, সিটিজেন্স ভয়েস-এর নির্বাহী পরিচালক

