সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের দাবি আবারও জোরালো হয়েছে। প্রায় চার মাস ধরে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় সরাসরি আদালত কক্ষে উপস্থিত থেকে সংবাদ সংগ্রহে বাধার অভিযোগ তুলে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরাম।
বুধবার সকালে সংগঠনটির সভাপতি মাসউদুর রহমান রানা ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ডালিম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি প্রধান বিচারপতির কাছে জমা দেওয়া হয়। পরে সেটি গ্রহণ করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল। এ সময় সংগঠনের অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
চিঠিতে সাংবাদিক নেতারা উল্লেখ করেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুযোগ না থাকায় বিচারিক কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে নির্ভুল ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তাদের দাবি, আদালত কক্ষে প্রবেশের সুযোগ না থাকলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আংশিকভাবে প্রকাশ পায়, কখনো বিভ্রান্তিও তৈরি হতে পারে।
সংগঠনটির ভাষ্য, বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনআস্থা ধরে রাখতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম জনগণের সামনে তুলে ধরা বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বৃদ্ধিতেও সহায়ক বলে মনে করছেন তারা।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে এর আগেও একাধিকবার লিখিত আবেদন জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি সাংবাদিকরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ও মানববন্ধনের মাধ্যমে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিক নেতারা ঈদুল আজহার পর থেকে আপিল বিভাগের এজলাস কক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য প্রধান বিচারপতির সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে অপসাংবাদিকতা রোধ ও পেশাগত মান বজায় রাখতে সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরাম সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আদালত প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে সরাসরি উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, শুনানির পরিবেশ, আইনজীবীদের বক্তব্য এবং মামলার তাৎক্ষণিক অগ্রগতি অনেক সময় লিখিত নথিতে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয় না। ফলে আদালত কক্ষে সাংবাদিকদের অনুপস্থিতি তথ্যপ্রবাহে সীমাবদ্ধতা তৈরি করতে পারে।
আইন বিশ্লেষকদের মতে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জনগণের জানার অধিকারও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দায়িত্বশীল ও নীতিনিষ্ঠ সাংবাদিকতা আদালতের কার্যক্রমকে জনগণের কাছে আরও স্বচ্ছভাবে তুলে ধরতে সহায়তা করে।
তবে আদালতকক্ষের শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং বিচারিক পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সাংবাদিক প্রবেশের বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা তৈরি করা হলে একদিকে গণমাধ্যমের কাজ সহজ হবে, অন্যদিকে আদালতের কার্যক্রমও সুশৃঙ্খল থাকবে।
এদিকে আপিল বিভাগে সাংবাদিক প্রবেশাধিকার সীমিত থাকার বিষয়টি আইন অঙ্গন ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। এখন প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন আদালত–সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা।

