দেশের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করতে বড় ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে নতুন করে ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে। পাশাপাশি জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে কেনা হচ্ছে ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, শুধু অবকাঠামো নয়, পুরো বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে জনবল বৃদ্ধির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রস্তাব রয়েছে ফায়ার সার্ভিসের মোট সদস্যসংখ্যা বাড়িয়ে ৩০ হাজারে উন্নীত করার।
পূর্বাচলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল—“অগ্নিসেনার একমাত্র শপথ, জীবন ও সম্পদ রাখব নিরাপদ।”
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দেশে বিদ্যমান ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় এখনও কম। বর্তমানে দেশে ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশন চালু থাকলেও জরুরি সেবা আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে নতুন স্টেশন নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বর্তমানে ২০টি প্রকল্পের আওতায় ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা এবং অন্যান্য দুর্যোগে দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হবে।
উদ্ধার কার্যক্রম আরও দক্ষ করতে বিশেষ ডুবুরি ইউনিট গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ জন্য নতুন ৭২টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, নৌদুর্ঘটনা বা পানিতে উদ্ধার অভিযানে এই ইউনিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকার গাজরিয়ায় একটি আধুনিক ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একাডেমি স্থাপনের উদ্যোগও নিয়েছে। এর মাধ্যমে সদস্যদের আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং উদ্ধার কার্যক্রমে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের “গতি, সেবা ও আত্মত্যাগের প্রতীক” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ড ছাড়াও বন্যা, দুর্ঘটনা ও নানা দুর্যোগে বাহিনীর সদস্যরা মানুষের পাশে থেকে নিরলস কাজ করছেন।
২০২৫ সালের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি জানান, গত বছর ফায়ার সার্ভিস ২৭ হাজার ৫৯টি দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে। এতে প্রায় ৩ হাজার ২৬৩ কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
এ ছাড়া একই সময়ে বাহিনীটি ৭ হাজার ৮১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৯ হাজার ২৬৬ জন আহত ব্যক্তিকে এবং ১ হাজার ৩৮টি মরদেহ।
ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্স সেবার মাধ্যমে চিকিৎসা সহায়তা পেয়েছেন ১০ হাজার ৪৮০ জন রোগী। পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ে ২ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
জনসচেতনতা বাড়াতে গত বছর ১০ হাজারের বেশি ভবন পরিদর্শন এবং প্রায় ২ হাজার জরিপও পরিচালনা করেছে সংস্থাটি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে অগ্নিকাণ্ড, শিল্প দুর্ঘটনা এবং নগর দুর্যোগের সংখ্যা বেড়েছে। তাই ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে দ্রুত সাড়া দেওয়া, আধুনিক সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষিত জনবল বাড়ানো হলে দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

