বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা কাঠামোগত সংকট দূর করতে কার্যকর সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম রায়হান। তাঁর মতে, ব্যাংক ও কর খাতে সমন্বিত সংস্কার ছাড়া দেশ রাজনৈতিক অর্থনীতির ‘অন্ধগলি’ থেকে বের হতে পারবে না।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সমাজ গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত ‘বিএনপি সরকারের ১০০ দিন- একটি প্রাথমিক মূল্যায়ণ’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন অর্থনীতিবিদ ড. এম এম আকাশ। আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান, অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ–এর সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।
আলোচনায় সেলিম রায়হান বলেন, কয়েক দশক ধরে দেশে যে অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে উঠেছে সেখানে বৈষম্য ও ক্রোনি ক্যাপিটালিজম বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে সংস্কারের দাবি দীর্ঘদিনের।
তিনি বলেন, গত দুই বছরে বিভিন্ন কমিশন ও কমিটির মাধ্যমে সংস্কার নিয়ে কিছু নির্দিষ্ট ধারণা পাওয়া গেলেও সরকার বাস্তবায়নের বিষয়ে কতটা আন্তরিক, তা এখনো পরিষ্কার নয়। বিশেষ করে ব্যাংকিং ও কর খাতে সমন্বিত সংস্কারের অভাব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে নানা আলোচনা হলেও সুসংগঠিত রূপরেখা এখনো দৃশ্যমান হয়নি।
সেলিম রায়হানের মতে, কাঠামোগত পরিবর্তন ছাড়া বৈষম্য কমানো, অর্থনীতিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা এবং বহুমুখীকরণের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
সরকারের সামাজিক উদ্যোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মতো কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর অর্থায়ন দীর্ঘমেয়াদে কতটা টেকসই হবে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের নিশ্চয়তা না থাকলে এসব উদ্যোগ ভবিষ্যতে হারিয়ে যেতে পারে অথবা রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া যাদের জন্য এসব সুবিধা চালু করা হচ্ছে, তারা প্রকৃতভাবে উপকৃত হচ্ছেন কি না, সেটিও নির্ভুল তথ্য ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে বলে মত দেন তিনি।
পুরো প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সেলিম রায়হান বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা জরুরি।

