রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ-২০২৫ আরও যাচাই-বাছাই করে জাতীয় সংসদে নতুন বিল আকারে উত্থাপনের জন্য গঠিত কমিটি আগামী ২৩ মে প্রথম বৈঠকে বসবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এই কমিটির দায়িত্ব হলো অধ্যাদেশটি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে একটি চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি করা। পরে সেই সুপারিশের ভিত্তিতে এটি নতুন বিল হিসেবে সংসদে উত্থাপন করা হতে পারে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-সংক্রান্ত এই সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হয় অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশকে আইন হিসেবে কার্যকর করার উদ্যোগ থেকে। বিষয়টি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য সংসদ একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি মত দেয়, রাজস্ব সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো দ্রুত বিল আকারে সংসদে না এনে বরং আরও সময় নিয়ে যাচাই-বাছাই করে পরে নতুন করে উপস্থাপন করা উচিত। এরপর গত ২৬ এপ্রিল মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তাদের কাজ হলো অধ্যাদেশটি যাচাই-বাছাই করে আরও কার্যকর ও বাস্তবসম্মত করে সুপারিশ তৈরি করা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কমিটি দ্রুত কাজ শেষ করে সুপারিশ চূড়ান্ত করবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ৭ জুন শুরু হতে যাওয়া জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনেই সংশোধিত বিলটি উত্থাপন করা হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ী ও করদাতারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এর কাঠামো নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছেন। তাদের অভিযোগ, একই প্রতিষ্ঠানের হাতে কর নীতি তৈরি এবং বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকায় স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়। এই প্রেক্ষাপটে করদাতা মহল এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সুপারিশে রাজস্ব ব্যবস্থাকে দুটি ভাগে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
এরই অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ১২ মে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়। এতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে দুটি আলাদা অংশে ভাগ করা হয়—একটি অংশ রাজস্ব প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে এবং অন্য অংশ দায়িত্ব পালন করবে রাজস্ব নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে।
তবে অধ্যাদেশ জারির পর কাঠামোগত কিছু বিষয়ে আপত্তি ওঠে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এর বিরুদ্ধে প্রায় দুই মাস ধরে আন্দোলন করেন। তাদের দাবি ছিল, রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা আলাদা করার সিদ্ধান্তে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।
পরবর্তীতে এসব আপত্তি ও আলোচনার পর সরকার অধ্যাদেশটি সংশোধন করে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে। এখন সেই সংশোধিত কাঠামো নিয়েই পরবর্তী ধাপের যাচাই-বাছাই ও সংসদীয় প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।

