রংবেরঙের ফুল বাগান বা ঘরের সৌন্দর্য বাড়ায়, কিন্তু সব ফুল নিরাপদ নয়। কিছু পরিচিত ফুলের সামান্য অংশও শরীরে গেলে গুরুতর বিষক্রিয়া হতে পারে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা প্রাণঘাতী হয়।
হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করে যেসব গাছ
- করবী: রাস্তার ধারে ও বাগানে সহজেই চোখে পড়া এই গাছের প্রায় সব অংশ বিষাক্ত। ভুলে খেলে বমি, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ও হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হতে পারে। পোষা প্রাণীর জন্যও এটি বিপজ্জনক।
- ফক্সগ্লোভ: লম্বা কাণ্ডে ঘণ্টার মতো ফুল ফোটে। গাছের সব অংশে বিষ আছে, বিশেষ করে পাতায়। বমি, মাথা ঘোরা, দৃষ্টির সমস্যা ও হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা হতে পারে।
- আজালিয়া: উজ্জ্বল রঙের কারণে বাগানে জনপ্রিয়, তবে ফুল ও গাছের বিভিন্ন অংশে গ্রায়ানোটক্সিন নামের উপাদান আছে। এতে হৃদস্পন্দন কমে যেতে পারে, দুর্বলতা আসে, গুরুতর ক্ষেত্রে অজ্ঞান হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কুকুর, বিড়াল ও ঘোড়ার জন্যও বিষাক্ত।
স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে যেসব গাছ
- অ্যাঞ্জেলস ট্রাম্পেট: ঘণ্টার আকারের বড় ফুলগুলো দেখতে নজরকাড়া। কিন্তু বিষক্রিয়ায় বিভ্রান্তি, হ্যালুসিনেশন, চোখের মণি বড় হয়ে যাওয়া, হৃদস্পন্দনের পরিবর্তন ও গুরুতর স্নায়বিক সমস্যা হতে পারে। বেশি মাত্রায় প্রাণঘাতী।
- বেলাডোনা (ডেডলি নাইটশেড): পুরো গাছই বিষাক্ত। খেলে মুখ শুকিয়ে যাওয়া, তীব্র তৃষ্ণা, চোখের মণি বড় হওয়া, ত্বক লাল হওয়া, বিভ্রান্তি ও অজ্ঞান হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ইতালীয় ভাষায় নামটির অর্থ “সুন্দরী নারী”। প্রচলিত আছে, একসময় নারীরা চোখের মণি বড় দেখাতে এর নির্যাস ব্যবহার করতেন, যা ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক।
- পয়জন হেমলক: এর বিষ স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত করে পেশির নিয়ন্ত্রণ ও শ্বাসপ্রশ্বাসে গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে। ইতিহাসে উল্লেখ আছে, গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হেমলকের বিষ ব্যবহার করা হয়েছিল।
- ওয়াটার হেমলক: অত্যন্ত বিষাক্ত। এর বিষে খিঁচুনি ও প্রাণঘাতী জটিলতা হতে পারে।
পেটের সমস্যা ও অন্যান্য উপসর্গ
- মিসলটো: পশ্চিমে ভালোবাসার প্রতীক, বড়দিনে এর নিচে চুম্বনের রীতিও বেশ পরিচিত। তবে কিছু অংশ বিষাক্ত। খেলে বমি, ডায়রিয়া, পেটে অস্বস্তি ও ঝাপসা দেখা দিতে পারে।
- উইস্টেরিয়া: থোকা থোকা ফুলে সুন্দর এই গাছের বীজ ও শুঁটি বিষাক্ত। বমি, পেটব্যথা ও ডায়রিয়া হতে পারে। শিশু এবং কুকুর বিড়ালের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

