দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাহার এবং দেশটির রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া জুনের শেষ দিকে শুরু হয়েছিল, আগস্টের মাঝামাঝি এসে সেটিই নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সিটিজেন্স ভয়েসের বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২৬ জুন ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যে ত্রিপক্ষীয় কাঠামো চুক্তি হয়, তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ছিল দক্ষিণ লেবাননের নির্দিষ্ট এলাকায় ‘পাইলট জোন’ গঠন। পরিকল্পনাটি ছিল—ইসরায়েলি বাহিনী এসব এলাকা থেকে সরে যাবে, লেবাননের সেনাবাহিনী সেখানে নিয়ন্ত্রণ নেবে, হিজবুল্লাহর অস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামো সরানো হবে এবং এরপর ধাপে ধাপে অন্য এলাকাতেও একই প্রক্রিয়া সম্প্রসারিত হবে।
কিন্তু বাস্তবতা দ্রুতই দেখাচ্ছে, এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো—ইসরায়েলি প্রত্যাহারকে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে একই শর্তে বেঁধে দেওয়া। লেবানন ও হিজবুল্লাহর অবস্থান হলো, ইসরায়েলকে আগে বা অন্তত একইসঙ্গে দখল করা লেবানিজ ভূখণ্ড থেকে সরে যেতে হবে। বিপরীতে ইসরায়েলের অবস্থান, হিজবুল্লাহ সশস্ত্র থাকা পর্যন্ত তাদের সেনা দক্ষিণ লেবাননে থাকবে।
ফলে একটি মৌলিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে: যে শর্ত পূরণ না হলে ইসরায়েল প্রত্যাহার করবে না, সেই শর্ত পূরণের দায়িত্ব যাদের ওপর দেওয়া হয়েছে- তারা নিজেরাই ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতির বিরোধিতা করছে—তাহলে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া বাস্তবে কীভাবে শেষ হবে?
এই অচলাবস্থাই ‘পাইলট জোন’কে কেবল সামরিক ব্যবস্থাপনার বিষয় না রেখে দক্ষিণ লেবাননের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে পরিণত করেছে।
চুক্তির ভেতরের মূল সমীকরণ
২৬ জুনের মার্কিন-মধ্যস্থ ত্রিপক্ষীয় কাঠামো চুক্তি কয়েক মাসের ভয়াবহ সংঘাতের পর ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামো তৈরির চেষ্টা। চুক্তির কেন্দ্রে ছিল লেবাননের পুরো ভূখণ্ডে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা, হিজবুল্লাহসহ অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে প্রত্যাহার।
চুক্তির প্রথম পরীক্ষামূলক ধাপ হিসেবে তিনটি গ্রাম নির্ধারণ করা হয়—ফ্রুন, শ্রীফা এবং জাওতার আল-গারবিয়াহ। ২০ জুলাই এসব এলাকায় ‘পাইলট জোন’ কার্যক্রম শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরও ওই দিন জানায়, এই তিন গ্রামে কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং প্রক্রিয়াটি লেবানন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সমন্বয় কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হবে।
এর অর্থ, ‘পাইলট জোন’ নিজে কোনো নতুন আন্তর্জাতিক সীমান্ত নয়। বরং এটি ছিল একটি পর্যায়ভিত্তিক বাস্তবায়ন ব্যবস্থা—যার মাধ্যমে প্রথমে সীমিত এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনী একক নিরাপত্তা কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করবে এবং পরে একই মডেল বৃহত্তর দক্ষিণাঞ্চলে প্রয়োগ করার কথা।
জুলাইয়ের মাঝামাঝি রোমে ষষ্ঠ দফা আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র জানায়, পাইলট জোন বাস্তবায়নের কাঠামো ও নির্দেশিকা নিয়ে অগ্রগতি হয়েছে। রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে তখন বলা হয়, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীর একটি বাফার এলাকায় সেনা মোতায়েন রেখেছিল এবং প্রত্যাহারের প্রশ্নে দুই পক্ষের অবস্থান ছিল বিপরীত। লেবানন দ্রুত প্রত্যাহার চাইছিল, আর ইসরায়েল হিজবুল্লাহর অস্ত্র থাকার বিষয়টিকে প্রত্যাহারের সঙ্গে যুক্ত করছিল।
২০ জুলাইয়ের পর কী ঘটল
২০ জুলাই লেবাননের সেনাবাহিনী প্রথম ধাপের পাইলট জোনে প্রবেশ করে। জাওতার আল-গারবিয়াহতে সেনা মোতায়েন করা হয় এবং ফ্রুন ও শ্রীফাতেও লেবাননের বাহিনীর কার্যক্রম শুরু হয়। ইসরায়েলি বাহিনী এসব নির্দিষ্ট এলাকার কিছু অংশ থেকে সরে যায়।
এখানেই ‘পাইলট জোন’ ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈপরীত্যটি দেখা যায়।
একদিকে, নির্দিষ্ট এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী সরে গিয়ে লেবাননের সেনাবাহিনীকে জায়গা দেওয়ার ঘটনা চুক্তির বাস্তবায়নের প্রমাণ। অন্যদিকে, দক্ষিণ লেবাননের বিস্তৃত অঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা, হামলা এবং নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকলে কয়েকটি গ্রাম থেকে সীমিত প্রত্যাহারকে পূর্ণাঙ্গ ইসরায়েলি প্রত্যাহার বলা যায় না।
ল্য মোঁদ-এর বিশ্লেষণেও একই মৌলিক সমস্যা উঠে এসেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, চুক্তিটি পুরোপুরি ইসরায়েলি প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা দেয়নি; বরং প্রথমে দুটি পাইলট জোন থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে অন্য এলাকায় যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী নিরাপত্তা এলাকায় থাকবে।
অর্থাৎ, ‘পাইলট জোন’কে প্রত্যাহারের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হলেও পুরো প্রত্যাহারের সময়সীমা ও চূড়ান্ত সীমা এখনও অনির্দিষ্ট।
আগস্টে এসে অচলাবস্থা আরও স্পষ্ট
আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই অনিশ্চয়তা আরও প্রকট হয়।
১৩ আগস্ট ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবানন থেকে প্রত্যাহার করবে না। রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রকাশ্য মতপার্থক্যও তৈরি করে। ওয়াশিংটনের অবস্থান ছিল, জুনের চুক্তির কাঠামো অনুযায়ী ইসরায়েলি উপস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়া চুক্তির উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এখানে সংকটটি কেবল রাজনৈতিক নয়; এটি কাঠামোগত।
কারণ চুক্তিতে ইসরায়েলি প্রত্যাহার এবং হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণকে পরস্পরনির্ভর করা হয়েছে। কিন্তু হিজবুল্লাহর অবস্থান হলো—ইসরায়েলি বাহিনী লেবানিজ ভূখণ্ডে থাকা অবস্থায় তারা নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়ায় যাবে না। ফলে দুই পক্ষের শর্ত একে অপরকে আটকে দিচ্ছে।
এটিকে একটি ‘পারস্পরিক ভেটো’ পরিস্থিতি বলা যায়।
ইসরায়েল বলছে, ‘হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র হলে আমরা যাব।’
হিজবুল্লাহ বলছে, ‘ইসরায়েল গেলে নিরস্ত্রীকরণের প্রশ্নে আলোচনা হবে।’
আর লেবাননের রাষ্ট্রকে একই সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমন্বয় করে দক্ষিণাঞ্চলে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হচ্ছে।
তৃতীয় পক্ষের যাচাই নিয়ে নতুন বিরোধ
আগস্টে আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ যাচাইয়ের জন্য তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা।
Reuters ১২ আগস্ট জানায়, যুক্তরাজ্য, ইতালি, সুইজারল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়াকে সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক যাচাই ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে পরদিনই এক লেবানিজ কর্মকর্তা এই তথ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ অস্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব দেশের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা এখনও চলছে।
এখানে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। আলোচনায় ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের ব্যক্তিগত বাড়িতেও পরিদর্শনের সুযোগ চেয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। লেবাননের সেনাবাহিনী এ ধরনের তল্লাশি নিয়ে আপত্তি করেছে। কারণ এমন ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে লেবাননের অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্ব, বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা এবং হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়া—তিনটিই নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।
অর্থাৎ, পাইলট জোনের পরবর্তী ধাপ এখন শুধু ‘কে কোথায় থাকবে’—এই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। বরং প্রশ্ন হচ্ছে, কে কাকে তল্লাশি করবে, কে অস্ত্র শনাক্ত করবে, কে নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করবে এবং সেই সিদ্ধান্তের বৈধতা কে নির্ধারণ করবে।

‘পাইলট জোন’ কি সত্যিই দখলকৃত এলাকা ছিল?
এখানে মূল প্রতিবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
মিডল ইস্ট আই-এর মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে অনুসারে জানা যায়, জাওতার আল-গারবিয়াহ ও ফ্রুনে দীর্ঘমেয়াদি ইসরায়েলি স্থল উপস্থিতির দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সেই কারণে প্রতিবেদনের যুক্তি হলো, এসব জায়গাকে ইসরায়েলি দখল থেকে ‘হস্তান্তর’ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও অন্তত কিছু ক্ষেত্রে সেখানে এমন কোনো স্থায়ী ইসরায়েলি প্রশাসনিক বা সামরিক উপস্থিতি ছিল না, যেটিকে প্রচলিত অর্থে দখল হিসেবে বর্ণনা করা যায়।
এই পর্যবেক্ষণকে পুরো দক্ষিণ লেবাননের ক্ষেত্রে সাধারণীকরণ করা ঠিক হবে না।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে কোনো ভূখণ্ড ‘দখলকৃত’ কি না, তা কেবল সেখানে প্রতিদিন সৈন্য দাঁড়িয়ে আছে কি না—তার ওপর নির্ভর করে না। আইসিআরসি (ICRC)-এর ব্যাখ্যায় মূল প্রশ্ন হলো বিদেশি বাহিনী ওই ভূখণ্ডে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে কি না। ১৯০৭ সালের হেগ বিধিমালার ৪২ নম্বর ধারার ভিত্তিতে দখল নির্ধারণে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ (effective control) গুরুত্বপূর্ণ।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, কোনো বাহিনী শারীরিকভাবে সরে গেলেও যদি তারা কার্যকর কর্তৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধরে রাখে, কিছু পরিস্থিতিতে দখল-সংক্রান্ত আইনি দায়িত্ব অব্যাহত থাকতে পারে—এমন ব্যাখ্যাও আইসিআরসি-এর ২০২৫ সালের আইনি বিশ্লেষণে রয়েছে।
তাই জাওতার আল-গারবিয়াহ বা ফ্রুনে ইসরায়েলি সেনাদের স্থায়ী ঘাঁটি ছিল কি না—এটি গুরুত্বপূর্ণ মাঠপর্যায়ের প্রশ্ন। কিন্তু সেটিই একমাত্র প্রশ্ন নয়।
বরং দেখতে হবে:
- ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে কখন এবং কতটা কর্তৃত্ব প্রয়োগ করেছে;
- তারা ওই ভূখণ্ডে প্রবেশ ও চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেছে কি না;
- স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাবর্তন ঠেকানোর ক্ষমতা তাদের ছিল কি না;
- আশপাশের এলাকা থেকে তারা ওই গ্রামের ওপর সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করতে পারছে কি না এবং লেবাননের রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ সেখানে বাস্তবে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে কি না।
এই মানদণ্ডগুলো বিবেচনা না করে শুধু ‘সেখানে ইসরায়েলি সৈন্য ছিল না’ বলে দখল ছিল না—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া আইনি দিক থেকে অতিসরলীকরণ হবে।
‘হলুদ রেখা’ কেন গুরুত্বপূর্ণ
দক্ষিণ লেবাননের বর্তমান সংকট বোঝার জন্য ‘Yellow Line’ বা হলুদ রেখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
এটি ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক সীমান্ত নয়। লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের স্বীকৃত ‘Blue Line’ আলাদা একটি বিষয়। UNIFIL-এর ম্যান্ডেটের ইতিহাসও দেখায়, ২০০০ সালে ইসরায়েলি প্রত্যাহার যাচাইয়ের জন্য জাতিসংঘ ‘Blue Line’ নির্ধারণ করেছিল।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের সংঘাতের পর ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের ভেতরে যে নিরাপত্তা এলাকা তৈরি করেছে, সেটিই ‘Yellow Line’ নামে আলোচনায় এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই এলাকা সীমান্তের ভেতরে প্রায় ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত নিরাপত্তা অঞ্চল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এখানেই রাজনৈতিক ঝুঁকি।
যদি একটি অস্থায়ী সামরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়, তবে সেটি কার্যত একটি নতুন বাস্তব নিয়ন্ত্রণরেখায় পরিণত হতে পারে। আর যদি ওই রেখার ভেতরে থাকা বাসিন্দারা বাড়িতে ফিরতে না পারেন, কৃষিজমি ব্যবহার করতে না পারেন কিংবা স্থানীয় প্রশাসন স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, তাহলে ‘সাময়িক নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ ও ‘দীর্ঘস্থায়ী সামরিক নিয়ন্ত্রণ’-এর মধ্যে পার্থক্য ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে যায়।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও কেন হামলা থামেনি
জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণও পরিস্থিতির ভঙ্গুরতা দেখিয়েছে।
৯ জুলাইয়ের জাতিসংঘের ব্রিফিং-এ ইউনিফিল জানিয়েছিল, এক দিনেই ৪১টির বেশি আকাশসীমা লঙ্ঘন শনাক্ত করা হয়েছিল। শান্তিরক্ষীরা ইসরায়েলি ড্রোন, ইসরায়েলি অবস্থান থেকে গোলাবর্ষণ এবং বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলার ঘটনাও নথিভুক্ত করে। একই সঙ্গে ইউনিফিল সদস্যদের চলাচলে ইসরায়েলি বাহিনীর বাধার কথাও জানানো হয়।
অর্থাৎ, কাগজে একটি যুদ্ধবিরতি বা রাজনৈতিক কাঠামো থাকলেও মাঠপর্যায়ে সামরিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
এই বাস্তবতা আগস্টে আরও ভয়াবহভাবে সামনে আসে।
১৫ আগস্ট দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২ মার্চ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় মোট ৪ হাজার ৩৪৬ জন নিহত এবং ১২ হাজার ৩০১ জন আহত হয়েছেন।
১৫ আগস্টের হামলাটি জুনের যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আনসার ও দেইর আল-জাহরানি এলাকায় হামলায় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ও এক কমান্ডারকে লক্ষ্য করেছিল এবং হামলার আগে বেসামরিক লোকজনের উপস্থিতি সম্পর্কে অবগত ছিল না।
লেবাননের সরকার এ হামলাকে চলমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার জন্য বড় আঘাত হিসেবে দেখেছে।
ফলে পাইলট জোনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এখন একটি গ্রামের ভেতরে লেবাননের সেনা মোতায়েন নয়; বরং সেই গ্রামের বাইরে ও আশপাশে সামরিক কর্মকাণ্ড কতটা কমছে—সেটি।
ধ্বংসযজ্ঞের পর প্রত্যাবর্তন কতটা বাস্তব?
দক্ষিণ লেবাননের বহু এলাকায় যুদ্ধের কারণে বসতবাড়ি, সড়ক, কৃষিজমি ও অন্যান্য অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ও লাইটহাউস রিপোর্টস-এর সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক ধ্বংসের চিত্র উঠে এসেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘাতের বিভিন্ন পর্যায়ে বাড়িঘর, অবকাঠামো, কৃষিজমি ও চিকিৎসা স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় ৬ শতাংশ লেবানিজ ভূখণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত একটি ‘Yellow Line’ নিরাপত্তা এলাকার কথা উঠে এসেছে।
এই প্রেক্ষাপটে ‘সেনা প্রত্যাহার’ এবং ‘মানুষের প্রত্যাবর্তন’কে একই বিষয় হিসেবে দেখা যাবে না।
একটি এলাকায় সেনা না থাকা মানেই সেখানে বসবাস সম্ভব হয়ে গেছে—এমন নয়।
ফিরে আসার জন্য প্রয়োজন:
- নিরাপদ সড়ক;
- অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ ও অন্যান্য সামরিক ঝুঁকি অপসারণ;
- পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা;
- বসতবাড়ি পুনর্নির্মাণ;
- কৃষিজমিতে প্রবেশাধিকার;
- স্কুল ও স্বাস্থ্যসেবার পুনঃস্থাপন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, পুনরায় হামলা হবে না—এমন ন্যূনতম নিরাপত্তার নিশ্চয়তা।
তাই পাইলট জোনের সাফল্যের প্রকৃত সূচক হতে পারে শুধু লেবাননের সেনাবাহিনীর উপস্থিতি নয়; বরং বাসিন্দারা নিরাপদে ফিরে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারছেন কি না।
ইসরায়েলি অবস্থানের পরিবর্তন কী বলছে
আগস্টের ঘটনাবলি থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার—ইসরায়েল ‘প্রত্যাহার’কে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ করার পরিবর্তে নিরাপত্তা-ভিত্তিক শর্তের সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছে।
১৩ আগস্ট ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের বক্তব্য এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনা থাকার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী সামরিক উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানায়।
এই অবস্থানের ফলে জুনের কাঠামো চুক্তির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা সামনে এসেছে: চুক্তিতে প্রত্যাহার একটি লক্ষ্য হলেও প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারিত নয়।
যদি হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ একটি পূর্বশর্ত হয় এবং সেই নিরস্ত্রীকরণ রাজনৈতিকভাবে অচল থাকে, তাহলে ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি অনির্দিষ্টকাল ধরে চলার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়।
এমন আশঙ্কার কথা জুনেই বিশ্লেষকরা বলেছিলেন। ল্য মোঁদ (Le Monde)-এর উদ্ধৃত বিশেষজ্ঞদের মতে, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণে রাজি না হলে এবং ইসরায়েল প্রত্যাহারকে তার সঙ্গে যুক্ত রাখলে সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
লেবাননের জন্য দ্বিমুখী চাপ
লেবানিজ রাষ্ট্র একই সময়ে দুটি বিপরীত চাপের মুখে।
প্রথমত, তাকে পুরো ভূখণ্ডে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অর্থাৎ, হিজবুল্লাহর মতো অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র শক্তির সামরিক সক্ষমতা সীমিত করা চুক্তির অন্যতম শর্ত।
দ্বিতীয়ত, একই রাষ্ট্রকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে হবে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করতে হবে।
সমস্যা হলো, প্রথম কাজটি করতে গিয়ে দ্বিতীয়টির জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সমর্থন দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
হিজবুল্লাহ ইতোমধ্যে চুক্তির বিরোধিতা করেছে এবং ইসরায়েলি প্রত্যাহারের আগে নিরস্ত্রীকরণের উদ্যোগকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ফলে লেবানিজ সরকারের সামনে একটি অত্যন্ত কঠিন রাজনৈতিক সমীকরণ দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্র যদি হিজবুল্লাহর অস্ত্র সরাতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়, তাহলে অভ্যন্তরীণ সংঘাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে। আর যদি সে পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ইসরায়েল তার প্রত্যাহার বিলম্বিত করার যুক্তি পাবে।

‘পাইলট জোন’ আসলে কতটা সফল?
এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাইলট জোনকে সম্পূর্ণ ব্যর্থ বা সম্পূর্ণ সফল—কোনোটিই বলা যায় না।
যে জায়গায় অগ্রগতি হয়েছে, সেখানে প্রথমবারের মতো একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর অধীনে ইসরায়েলি বাহিনী কিছু এলাকা ছেড়েছে এবং লেবাননের সেনাবাহিনী সেখানে প্রবেশ করেছে। জুলাইয়ে তিনটি গ্রামে কার্যক্রম শুরু হওয়া নিঃসন্দেহে চুক্তির বাস্তবায়নের প্রথম দৃশ্যমান ধাপ।
কিন্তু যে জায়গায় বড় সমস্যা রয়ে গেছে, তা হলো বৃহত্তর দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি ও হামলা, প্রত্যাহারের সময়সীমার অনিশ্চয়তা, হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে বিরোধ এবং তৃতীয় পক্ষের যাচাই ব্যবস্থা নিয়ে অমীমাংসিত প্রশ্ন। আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত এগুলোর কোনোটিরই স্থায়ী সমাধান হয়নি।
অতএব, পাইলট জোনকে এখন পর্যন্ত প্রত্যাহারের প্রমাণের চেয়ে প্রত্যাহার পরীক্ষার ব্যবস্থা হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত।
‘দখল’ শব্দটি ব্যবহারে সতর্কতা
এই বিতর্কে ভাষার গুরুত্বও কম নয়।
কোনো এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী অবস্থান করেছে, হামলা চালিয়েছে বা সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে—এসবের প্রতিটির আইনি অর্থ এক নয়। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে দখল নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন হলো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ। আইসিআরসি স্পষ্টভাবে বলেছে, দখল একটি বাস্তব পরিস্থিতি; কোনো রাষ্ট্র সেটিকে ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’, ‘প্রশাসনিক এলাকা’ বা অন্য কোনো নাম দিলেই তার আইনি চরিত্র বদলে যায় না।
একইভাবে, ইসরায়েল যদি কোনো এলাকা থেকে সৈন্য সরিয়ে নেয় কিন্তু সেই এলাকার ওপর সামরিকভাবে কার্যকর কর্তৃত্ব বজায় রাখে, তাহলে শুধু শারীরিক সেনা প্রত্যাহারই সব আইনি প্রশ্নের সমাপ্তি ঘটায় না। আইসিআরসি-এর সাম্প্রতিক আইনি ব্যাখ্যায় এমন পরিস্থিতিতেও কার্যকর নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটি বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এই কারণে ‘পাইলট জোন’কে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তিনটি আলাদা বিষয় আলাদা রাখা জরুরি: সেনা প্রত্যাহার, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ এবং বাস্তব সার্বভৌমত্ব—এই তিনটি একই বিষয় নয়।
সামনে তিনটি সম্ভাব্য পথ
বর্তমান পরিস্থিতিতে দক্ষিণ লেবাননের সামনে মোটামুটি তিনটি সম্ভাব্য পথ দেখা যাচ্ছে।
প্রথম পথ হলো, পাইলট জোন সফলভাবে সম্প্রসারিত হবে। লেবাননের সেনাবাহিনী ধাপে ধাপে আরও এলাকায় প্রবেশ করবে, হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো সরানো হবে এবং ইসরায়েলও পর্যায়ক্রমে নিরাপত্তা এলাকা ছেড়ে যাবে। এটাই জুনের কাঠামো চুক্তির সবচেয়ে ইতিবাচক বাস্তবায়ন।
দ্বিতীয় পথ হলো, পাইলট জোন কয়েকটি বিচ্ছিন্ন এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে। ইসরায়েল কিছু এলাকা থেকে সেনা সরিয়ে নেবে, কিন্তু বৃহত্তর ‘Yellow Line’ এলাকায় উপস্থিতি বজায় রাখবে। হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণকে প্রত্যাহারের শর্ত হিসেবে ব্যবহার করা হবে এবং চুক্তি কার্যত একটি দীর্ঘস্থায়ী অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় পরিণত হবে।
তৃতীয় ও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথ হলো, নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে অচলাবস্থা ও পাল্টাপাল্টি হামলা আবার বড় সংঘাতে রূপ নেবে। ১৫ আগস্টের ১১ জন নিহত হওয়ার ঘটনা দেখিয়েছে, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও সেই ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি।
প্রত্যাহার নাকি নতুন নিরাপত্তা বাস্তবতা?
দক্ষিণ লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতিকে শুধু ‘ইসরায়েল পাইলট জোন থেকে সরে যাচ্ছে’—এভাবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়ে না।
বাস্তবে জুনের কাঠামো চুক্তি একটি জটিল বিনিময় তৈরি করেছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার বিনিময়ে হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। একই সময়ে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের বিনিময়ে ইসরায়েলি প্রত্যাহারের পথ খোলার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু দুই প্রক্রিয়া পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় একটির অগ্রগতি অন্যটির অচলাবস্থার ওপর আটকে আছে।
২০ জুলাই তিনটি পাইলট জোনে কার্যক্রম শুরু হওয়া তাই গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি চূড়ান্ত সমাধান নয়। বরং এটি একটি পরীক্ষামূলক সূচনা, যার ফল নির্ভর করবে পরবর্তী কয়েকটি প্রশ্নের ওপর—ইসরায়েল কত দ্রুত ও কত দূর পর্যন্ত প্রত্যাহার করবে, লেবাননের সেনাবাহিনী কতটা স্বাধীনভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে, হিজবুল্লাহ কীভাবে নিরস্ত্রীকরণ প্রশ্নে সাড়া দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা কীভাবে চুক্তির বাস্তবায়ন যাচাই করবে।
১৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নতুন বাস্তবতা হলো, এই প্রশ্নগুলোর কোনোটিরই চূড়ান্ত উত্তর পাওয়া যায়নি। বরং আগস্টের মাঝামাঝি ইসরায়েলি হামলা এবং প্রত্যাহারকে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার বক্তব্য সংকটকে আরও জটিল করেছে। একই সময়ে তৃতীয় পক্ষের যাচাই ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা চলছে, কিন্তু তা এখনো চূড়ান্ত নয়।
ফলে ‘পাইলট জোন’ এখন কেবল তিনটি গ্রামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নয়। এটি হয়ে উঠেছে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি, হিজবুল্লাহর অস্ত্র, লেবাননের রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার কার্যকারিতা—এই চারটি শক্তির সংঘর্ষের পরীক্ষাগার।
সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে এক জায়গায়: কয়েকটি গ্রাম থেকে সেনা সরানোর পরও যদি লেবাননের মানুষ নিজেদের ভূখণ্ডে নিরাপদে ফিরতে না পারে, সড়ক ও কৃষিজমি ব্যবহার করতে না পারে এবং আশপাশে বিদেশি বাহিনীর সামরিক নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকে, তাহলে কাগজে-কলমের প্রত্যাহার কতটা বাস্তব সার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে দিল—সেই প্রশ্ন থেকেই যাবে।
আর যদি সেই প্রশ্নের উত্তর দীর্ঘদিন অমীমাংসিত থাকে, তাহলে ‘পাইলট জোন’ একটি অস্থায়ী প্রত্যাহার প্রক্রিয়া না হয়ে দক্ষিণ লেবাননে একটি নতুন, দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভিত্তি হয়ে ওঠার ঝুঁকি তৈরি করবে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, এপি, আল জাজিরা, লে মোঁদ, ইউএন, আইসিআরসি, ফিনান্সিয়াল টাইমস, লাইটহাউস রিপোর্ট, মিডল ইস্ট আই।

