চলতি ২০২৫-২৬ করবর্ষে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলে ব্যাপক সাড়া দেখা গেছে। এখন পর্যন্ত ৪১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ব্যক্তি করদাতা ই-রিটার্ন জমা দিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়সীমা বাড়ানোর জন্য অনলাইন আবেদনও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, ই-রিটার্ন সিস্টেমে ইতোমধ্যে ৫০ লাখের বেশি ব্যক্তি করদাতা নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এ বছর বেশিরভাগ করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করায় এই সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।
করদাতাদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় ৩১ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগে আবেদন করলে কর কমিশনার সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় দিতে পারেন।
এনবিআর সময় বাড়ানোর প্রক্রিয়াকে সহজ করতে ই-রিটার্ন সিস্টেমে আলাদা ‘টাইম এক্সটেনশন’ অপশন চালু করেছে। এর মাধ্যমে করদাতারা অনলাইনে লগইন করে সহজেই আবেদন করতে পারছেন। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে পাঁচ হাজারের বেশি করদাতা এই সুবিধা ব্যবহার করে সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছেন। বেশিরভাগ আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
অনলাইনে আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের কমিশনাররা তা যাচাই করে অনুমোদন দিচ্ছেন। অনুমোদন পাওয়া গেলে করদাতারা বাড়তি সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা বা অতিরিক্ত কর ছাড়াই রিটার্ন জমা দিতে পারছেন। এনবিআর আরও জানিয়েছে, যারা এখনো রিটার্ন জমা দেননি, তারা জরিমানা এড়াতে চাইলে অবশ্যই ৩১ মার্চের আগেই সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন থাকা বাধ্যতামূলক, এবং নিবন্ধনের জন্য নিজের নামে নিবন্ধিত বায়োমেট্রিক সিম ব্যবহার করতে হবে।
তবে যেসব করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়, তারা চাইলে সরাসরি কর সার্কেলে লিখিত আবেদন করেও সময় বাড়ানোর সুযোগ নিতে পারবেন। করদাতাদের সময়মতো রিটার্ন দাখিলের আহ্বান জানিয়ে এনবিআর বলছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না দিতে পারলে যথাযথ কারণ দেখিয়ে অনলাইনে আবেদন করে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত সময় বাড়ানো সম্ভব।

