১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ৩০ লাখ মানুষ এবং সম্ভ্রম হারানো দুই লাখ নারীর পূর্ণাঙ্গ জাতীয় তালিকা প্রস্তুত ও তাদের পরিবারকে সম্মানজনক আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানিয়ে সরকারকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে নোটিশ প্রেরণ করেন। নোটিশটি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্য এই শহীদ ও নির্যাতিত নারীদের আত্মত্যাগ বিনিময় ছাড়া সম্ভব হয়নি। সরকার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা, কোটা ও বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করলেও, এত বছর পরও শহীদ এবং নির্যাতিত নারীদের সম্পূর্ণ যাচাইকৃত তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। এটি এক গভীর ঐতিহাসিক অবিচার এবং জাতীয় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শহীদদের পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে তাদের উপার্জনক্ষম সদস্য হারিয়ে দারিদ্র্য ও সামাজিক অবহেলার মধ্যে জীবনযাপন করছে। একইভাবে নির্যাতিত নারীর অনেকেই আজীবন শারীরিক ও মানসিক কষ্ট সহ্য করেছেন, কিন্তু সরাসরি আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত থেকেছেন। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, এই আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি না দেওয়া এবং ক্ষতিপূরণ না দেওয়া সংবিধানেরও পরিপন্থী।
আইনি নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শহীদ ও নির্যাতিত নারীদের পূর্ণাঙ্গ এবং যাচাইকৃত তালিকা প্রস্তুত করে তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া শহীদ পরিবারের সদস্য ও জীবিত নির্যাতিত নারীদের জন্য সম্মানজনক আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নেরও দাবি করা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ না নিলে, সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট দায়ের করা হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।

