মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা জোরদার এবং নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতিতে বাহরাইনে নিহত বাংলাদেশি কর্মী এস এম তারেকের মরদেহ শুক্রবার ভোরে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সৌদি আরবের দাম্মাম থেকে গালফ এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে মরদেহটি দেশে আনা হয়। এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা মরদেহ গ্রহণ করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৬ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি বলেন, নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
নিহত তারেকের পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে দাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা এবং অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী আরও জানান, পরিবারটি পরবর্তীতে ৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা এবং ১০ লাখ টাকার বিমা সুবিধা পাবে। দীর্ঘমেয়াদে সহযোগিতার ব্যবস্থাও করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। একইসঙ্গে ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি এবং সংকটাপন্ন প্রবাসীদের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। মানব পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি। এছাড়া গ্রিসে আটক বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ দ্রুত শুরু হবে বলে উল্লেখ করেন।
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানান, এখন পর্যন্ত তিনজন নিহতের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

