রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক মর্মান্তিক ঘটনায় স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা আবারও সামনে এসেছে। আইসিইউ বেডের অভাবে চিকিৎসা না পেয়ে ১০ বছর বয়সী এক শিশু মৃত্যুবরণ করার তিন দিন পর তার পরিবারকে বেড খালি হওয়ার খবর জানানো হয়, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর বেদনা ও প্রশ্ন।
ঘটনাটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রামেক) হাসপাতালের। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা অরুণ আলী ও সোনিয়া খাতুন দম্পতির একমাত্র মেয়ে ফাতিমা খাতুন হামের উপসর্গে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। প্রায় ১৫ দিন অসুস্থ থাকার পর ৩০ মার্চ তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকরা দ্রুত আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দিলেও সেদিন কোনো শয্যা খালি পাওয়া যায়নি। পরিবারটি সারাদিন চেষ্টা করেও আইসিইউ বেড জোগাড় করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত বিকেলেই মারা যায় শিশুটি। কিন্তু ঘটনার করুণ দিক হলো—মৃত্যুর তিন দিন পর, ২ এপ্রিল বিকেলে হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগ থেকে ফোন করে জানানো হয় একটি বেড খালি হয়েছে।
শিশুটির বাবা অরুণ আলী বলেন, মেয়েকে বাঁচাতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। ডাক্তার-নার্সসহ সবার কাছে অনুরোধ করেছিলেন একটি আইসিইউ বেডের জন্য। কিন্তু সেই সুযোগ পাননি। “মেয়ের মৃত্যুর পর আইসিইউর ফোন পেয়ে বুকটা ভেঙে গেছে,” বলেন তিনি। মা সোনিয়া খাতুনও একইভাবে শোকাহত কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়েই তো নেই, এখন আইসিইউ দিয়ে কী করবো?”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে স্বীকার করেছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আইসিইউতে সীমিত সংখ্যক বেড থাকায় অনেক রোগীকেই অপেক্ষায় থাকতে হয়। একটি বেড খালি হওয়ার আগে নতুন রোগী ভর্তি করা সম্ভব হয় না। তারা আরও জানান, শিশুদের জন্য আইসিইউ বেড সংখ্যা বর্তমানে ১৮টি হলেও রোগীর সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। ফলে অনেক সময় রোগীরা সেবা না পেয়ে অন্যত্র চলে যান কিংবা অপেক্ষারত অবস্থায় থাকেন। এই ঘটনাটি দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর আইসিইউ সংকট ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে আবারও সামনে এনে দিয়েছে।

