ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১২ মে। এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে আগামী বুধবার, যা নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত ১১তম কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি জানান, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফলে মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই এবং প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট তারিখ তফসিল ঘোষণার দিনই জানানো হবে।
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার সময়সীমা নিয়েও নতুন সিদ্ধান্ত এসেছে। গেজেট প্রকাশের পর এক মাসের মধ্যে এই হিসাব জমা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও, অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণে অনেকেই সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কমিশন আরও এক মাস সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে সবাই তাদের ব্যয়ের রিটার্ন জমা দিতে পারেন।
আসন্ন উপনির্বাচন নিয়েও কমিশনের প্রস্তুতি চলছে। আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচন এবং বগুড়া-৬ আসনের সাধারণ নির্বাচন। এই দুই আসনে যথাক্রমে ১২৯টি ও ১৫১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে।
আখতার আহমেদ জানান, এই নির্বাচনগুলো নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বাহিনী সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তার ভাষায়, এই নির্বাচনগুলো কোনো অংশেই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল এখনো স্থগিত রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে নির্বাচন কমিশন। আদালত যেভাবে নির্দেশ দেবে, সে অনুযায়ী ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
সবশেষে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্তের কথাও জানান ইসি সচিব। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার করা হবে না—এ বিষয়ে কমিশন নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি।
সব মিলিয়ে, সামনে জাতীয় রাজনীতিতে নির্বাচনকেন্দ্রিক ব্যস্ততা আরও বাড়তে যাচ্ছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সংরক্ষিত নারী আসনের এই নির্বাচন।

