দেশে সাম্প্রতিক হাম পরিস্থিতিতে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায় নির্ধারণ ও জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি জোরালো হচ্ছে। বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে, টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এই সংকটকে তীব্র করেছে, যা নিয়ে আইনি আলোচনাও সামনে আসছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুতর অবহেলার কারণে কারও মৃত্যু হলে তা অনেক দেশে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের আদালতে এ ধরনের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ রায় রয়েছে। বাংলাদেশেও এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা আছে, যেখানে চিকিৎসা বা দায়িত্ব পালনে গাফিলতির কারণে মৃত্যু হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৩০৪(ক) ধারা অনুযায়ী, বেপরোয়া বা অবহেলাজনিত কাজের ফলে মৃত্যু ঘটলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। চিকিৎসায় গাফিলতি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাব বা দায়িত্বে চরম অবহেলার মতো পরিস্থিতিতে এই ধারা প্রযোজ্য হতে পারে। এই অপরাধ হিসেবে ইউনূস-নূরজাহানের বিচার চায় জনগণ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি বছরে হাম সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পেছনে আগের বছরের তুলনায় টিকাদানের হার কমে যাওয়াই অন্যতম কারণ। জাতীয় পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কমিটির কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী টিকাদান না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাম-সংশ্লিষ্ট উপসর্গ নিয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে রোগীর চাপও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীদের একটি অংশ বলছেন, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করা জরুরি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আইনি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা উচিত। তারা মনে করেন, জনস্বাস্থ্য খাতে যেকোনো ত্রুটি বা অবহেলার ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে।

