দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম এবং হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৫৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের এক দিনে নতুন করে চার শিশুর মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৫২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬৪ জনের শরীরে পরীক্ষাগারে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫৬৩ শিশুর প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে। দুই ধরনের হিসাব মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫৬ জনে।
দেশজুড়ে সংক্রমণের বিস্তারও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় পৌঁছেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সময়ে পরীক্ষাগারে ১০ হাজার ৩৩৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ৮৬ হাজার ৯২৩ জনে পৌঁছেছে, যা পরিস্থিতির ব্যাপকতা তুলে ধরে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের বড় একটি অংশ চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছে। এখন পর্যন্ত ৬৭ হাজার ৮৭৮ জন রোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। তবে প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়া এবং হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য খাতে চাপ অব্যাহত রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা না পাওয়া শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। অপুষ্টি, দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং চিকিৎসা নিতে দেরি হওয়াও জটিলতা বাড়িয়ে দিতে পারে।
তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। কারণ দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না গেলে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, শিশুদের মধ্যে জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া বা শরীরে লালচে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে। একই সঙ্গে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত সব টিকা সময়মতো নিশ্চিত করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদানের পরিধি বাড়ানো এবং দ্রুত রোগ শনাক্তকরণই বর্তমানে হামের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। অন্যথায় দেশের শিশুস্বাস্থ্যের ওপর এ সংক্রমণের চাপ আরও গভীর হতে পারে।

