মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বাংলাদেশে সালফার সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সালফিউরিক অ্যাসিড উৎপাদনে। ফলে বাজারে এই গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিকের দাম স্বাভাবিকের তুলনায় ৮ থেকে ১০ গুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে, যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন শিল্পখাতে চাপ সৃষ্টি করছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, তেল শোধনের উপজাত সালফার এবং এর থেকে উৎপাদিত সালফিউরিক অ্যাসিড চামড়া, ব্যাটারি, সার ও ওষুধসহ নানা শিল্পের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে কাঁচামাল আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে উৎপাদন কমে গিয়ে সরবরাহে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
এরই মধ্যে কাঁচামালের অভাবে ফরিদপুরের একটি বেসরকারি অ্যাসিড উৎপাদনকারী কারখানা গত মার্চের শুরু থেকে বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বলছেন, বিকল্প উৎস থেকে আমদানির চেষ্টা চলছে, তবে পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি।
অন্যদিকে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত টিএসপি কমপ্লেক্সের সালফিউরিক অ্যাসিড প্ল্যান্টও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। যান্ত্রিক ত্রুটি, গ্যাসের স্বল্পচাপ এবং যন্ত্রাংশের অভাব—সব মিলিয়ে উৎপাদন পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির মজুদ দ্রুত শেষ হয়ে আসছে।
আমদানি পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের মার্চ মাসে কোনো সালফার আমদানি হয়নি। এর আগে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে কিছু আমদানি হলেও তা চাহিদার তুলনায় কম। সাধারণত সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকেই বাংলাদেশের বড় অংশের সালফার আসে। এছাড়া রাশিয়া থেকে আমদানিও নিষেধাজ্ঞার কারণে বন্ধ রয়েছে। ফলে বিকল্প উৎস সীমিত হয়ে পড়েছে, যা সংকট আরও বাড়িয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে চাহিদার বিপরীতে মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সালফিউরিক অ্যাসিড সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। কয়েক মাস আগেও প্রতি কেজি অ্যাসিডের দাম ছিল ২০-২৫ টাকা, যা ধাপে ধাপে বেড়ে এখন অনেক ক্ষেত্রে ২০০ টাকার বেশি ছাড়িয়েছে। বড় পরিমাণে কিনতে গেলে প্রতি ১০ টনের চালান ২০ লাখ টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যাটারি ও ট্যানারি শিল্প। উদ্যোক্তারা বলছেন, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের দাম বাড়ানোর চাপ তৈরি হয়েছে, একই সঙ্গে উৎপাদনও কমে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে কাঁচামাল আমদানি এবং স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক শিল্প খাতে।

