আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর আটক, হেফাজতে নেওয়া এবং আদালতে উপস্থাপনের প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আজ বৃহস্পতিবার সংগঠনটি এক সংবাদ বিবৃতির মাধ্যমে এই উদ্বেগ ব্যক্ত করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় ড. শিরীন ধানমন্ডিতে আত্মীয়ের বাসায় উপস্থিত হন। গভীর রাতে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে তাকে আটক করে এবং ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় প্রশ্ন ওঠে, একজন নাগরিক, বিশেষত একজন নারীকে মধ্যরাতে আটক দেখানোর যৌক্তিকতা কতটা ছিল।
আসক মনে করছে, দিনের বেলায় স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল কি না, তা খোলাখুলি বলা প্রয়োজন। আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও প্রযোজনীয়তা বজায় রাখা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আদালতে উপস্থাপনের সময় যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখা গেছে, তা ন্যূনতম শৃঙ্খলা ও মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে ড. শিরীন হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়েছিলেন। বিচারপ্রার্থী প্রত্যেক ব্যক্তির নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
আসক সতর্ক করেছে, গ্রেপ্তার ও হেফাজতে নেওয়ার সময় প্রচলিত আইন, ফৌজদারি কার্যবিধি এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। ব্যত্যয় ন্যায়বিচারের নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আইএসপিআর ২০২৫ সালের ২২ মে জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ৬২৬ জন ব্যক্তি নিরাপত্তাজনিত কারণে সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তালিকায় ড. শিরীনের নামও ছিল। আনুষ্ঠানিক তথ্য না থাকার কারণে তার হঠাৎ আটককাণ্ড নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
আসক মনে করছে, রাষ্ট্রের প্রতিটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও বিচার বিভাগ নাগরিকের মানবাধিকার সুরক্ষায় দায়বদ্ধ। নির্বাচনী অঙ্গীকারে আইনের শাসন ও সাংবিধানিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে, তাই এই দায়িত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ।
সংগঠনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

