করোনাকালের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আবারও আংশিক অনলাইন শিক্ষায় ফিরছে দেশ। তবে এবার পুরোপুরি ভার্চুয়াল নয়—অনলাইন ও সরাসরি ক্লাস মিলিয়ে নতুন ‘ব্লেন্ডেড’ শিক্ষা পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, রাজধানীর তীব্র যানজট এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তবতা বিবেচনায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
নতুন এই ব্যবস্থায় সপ্তাহে ছয় দিন শিক্ষা কার্যক্রম চলবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী শনি, সোম ও বুধবার শিক্ষার্থীরা সরাসরি শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হয়ে পাঠ গ্রহণ করবে। অন্যদিকে রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। এর ফলে আগে যে দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি ছিল, তা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।
এই ‘ব্লেন্ডেড’ শিক্ষা মডেল দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে চালু হচ্ছে না। আপাতত ঢাকার বড় ও যানজটপ্রবণ এলাকার নির্বাচিত কিছু স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, এটি কোনো বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত নয়। যেসব প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও সক্ষমতা রাখে, তারাই স্বেচ্ছায় এই পদ্ধতিতে অংশ নিতে পারবে। ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময় ও ভোগান্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে, একইসঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সঙ্গে তাদের আরও অভ্যস্ত করে তুলবে। তবে প্রযুক্তিগত সুবিধার সমান প্রাপ্যতা নিশ্চিত না হলে নতুন ধরনের বৈষম্যের ঝুঁকিও থেকে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে, যেখানে অনলাইন ও অফলাইন শিক্ষার সমন্বয়ে তৈরি হবে আরও নমনীয় ও আধুনিক একটি শিক্ষাব্যবস্থা।

