দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে আর কোনো সর্বোচ্চ বয়সসীমা থাকছে না। এ সংক্রান্ত একটি সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে, যার ফলে ৬৭ বছরের সীমা তুলে দেওয়া হলো।
শুক্রবার সংসদের অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২’ সংশোধনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে কোনো সংশোধনী ছাড়াই বিলটি পাস হয়। নতুন আইনের নাম রাখা হয়েছে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক সংশোধন আইন, ২০২৬’।
এই আইনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক -এর গভর্নর পদের জন্য আগে নির্ধারিত ৬৭ বছরের বয়সসীমা বাতিল করা হয়েছে। তবে গভর্নরের মেয়াদ চার বছর এবং পুনর্নিয়োগের সুযোগ আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আর্থিক খাত পরিচালনায় অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে গেলে নির্দিষ্ট বয়সসীমা অনেক সময় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই এই সীমাবদ্ধতা দূর করতেই আইন সংশোধন করা হয়েছে।
বিলের ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়, গভর্নর পদে দায়িত্ব পালন করতে হয় মুদ্রানীতি প্রণয়ন, আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, ব্যাংক তদারকি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এসব ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২০ সালে সংশোধনের মাধ্যমে গভর্নরের বয়সসীমা ৬৫ থেকে বাড়িয়ে ৬৭ বছর করা হয়েছিল। এবার সেই সীমা পুরোপুরি তুলে দেওয়ায় ভবিষ্যতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সের পরিবর্তে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলো। সংসদের চলমান অধিবেশনে বিভিন্ন আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সংক্রান্ত আইন সংশোধনের অংশ হিসেবেই এই বিলটি পাস করা হয়েছে।

