দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স আবেদন দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করার প্রস্তুতি থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ও সাবেক অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।
শনিবার রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত ‘রিস্ক কনফারেন্স অন ব্যাংকিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স ২০২৬’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট দুটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে ব্যাংক খাতে দুর্বল প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে। অনেক আমানতকারী তাদের অর্থ ফেরত পেতে সমস্যায় পড়ছেন। এমন বাস্তবতায় নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে কমপ্লায়েন্স বা নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুরো অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সালেহউদ্দিন আহমেদ তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, অতীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দায়িত্ব পালনকালে তিনি একাধিকবার নতুন ব্যাংক অনুমোদনের প্রস্তাব পেয়েছিলেন। তবে সেগুলো মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তিনি প্রযুক্তিগত ও ঝুঁকি বিশ্লেষণকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি মনে করেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি জনগণকে ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে আরও সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে শুধু ব্যাংকনির্ভর করে রাখা সম্ভব নয়; পুঁজিবাজারকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক-এর সাবেক এই গভর্নর ব্যাংকগুলোর উদ্দেশে বলেন, ঋণ দেওয়ার আগে গ্রাহকের আর্থিক সক্ষমতা ও ঝুঁকি যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। শক্তিশালী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা ছাড়া টেকসই ব্যাংকিং সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে তিনি ব্যাংকিং খাতে নিয়ন্ত্রক শৃঙ্খলা জোরদার, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং অপ্রয়োজনীয় নতুন ব্যাংক অনুমোদনে সতর্ক অবস্থানের ওপর গুরুত্ব দেন।

