রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক আইন প্রয়োগে কঠোর হচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সিগন্যাল লাইট অমান্য, উল্টো পথে চলাচল কিংবা নিয়ম ভেঙে রাস্তা পারাপার করলে এখন থেকে জরিমানা, এমনকি কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে।
রাজধানীর ব্যস্ত সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি আইন প্রয়োগ জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে ডিএমপি। এক গণবিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ট্রাফিক নিয়ম ভাঙলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে পুরো ব্যবস্থা।
ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- বাংলামোটর, ফার্মগেট, বিজয় সরণি
- গুলশান-১ ও গুলশান-২
- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জাহাঙ্গীর গেট এলাকা
- মৌচাক, শাহবাগ, কাকরাইলসহ আরও কয়েকটি ব্যস্ত মোড়।
এছাড়া কিছু এলাকায় অস্থায়ী সিগন্যাল স্থাপন করা হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে স্থায়ী করা হবে। ডিএমপি চালকদের প্রতি বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে—
- লাল বাতিতে অবশ্যই থামতে হবে
- হলুদ বাতিতে গতি কমিয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে
- স্টপ লাইন অতিক্রম না করা
- উল্টো পথে গাড়ি না চালানো
- ক্রসিংয়ে যাত্রী ওঠানামা না করানো
- বাম লেন দখল করে যানজট সৃষ্টি না করা।
শুধু চালকই নয়, পথচারীদের জন্যও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
- জেব্রা ক্রসিং বা ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করতে হবে
- পেডেস্ট্রিয়ান সিগন্যালের সবুজ বাতিতে রাস্তা পার হতে হবে
- যত্রতত্র রাস্তা পার হলে শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
ডিএমপি জানিয়েছে, সিগন্যাল পয়েন্টগুলোতে আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে—
- সিগন্যাল ভঙ্গ
- উল্টো পথে গাড়ি চালানো
- সড়কে বাধা সৃষ্টি
- নিয়ম ভেঙে পারাপার। এসব অপরাধ শনাক্ত করে সরাসরি ডিজিটাল মামলা করা হবে।
সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী—
- ট্রাফিক আইন ভাঙলে সর্বোচ্চ ১ মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা
- উল্টো পথে চললে সর্বোচ্চ ৩ মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা
- নির্ধারিত স্থানে যাত্রী না নামালে ৫ হাজার টাকা জরিমানা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলার অভাব ছিল। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি চালু হলে আইন প্রয়োগ আরও কার্যকর হবে এবং দুর্ঘটনা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। ডিএমপির এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সফলতা নির্ভর করবে নিয়ম মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে ওঠার ওপর।

