তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের দুটি প্রধান ইউরিয়া কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এর প্রভাব পড়েছে সার উৎপাদনের পুরো সরবরাহ চেইনে। কাঁচামাল সংকটে পড়ে এখন ডিএপি সার উৎপাদনকারী কারখানাটিও বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।
দেশের সার খাতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে গ্যাস সরবরাহ সংকটের কারণে। গত ৪ মার্চ থেকে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দুটি বৃহৎ সার কারখানা—চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)—উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় কারিগরি ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকায় এর প্রভাব এখন অন্য কারখানাগুলোকেও স্পষ্টভাবে আঘাত করছে।
এই দুই কারখানার উৎপাদিত অ্যামোনিয়ার ওপর নির্ভরশীল ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মজুত অ্যামোনিয়া দিয়ে সর্বোচ্চ আরও এক সপ্তাহ উৎপাদন চালানো সম্ভব হবে। এরপর কাঁচামাল না থাকলে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কারখানাটিতে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ টন ডিএপি সার উৎপাদন হয়, যা কৃষি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান।
ডিএপিএফসিএল-এর দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৮০০ টন হলেও বর্তমানে তা কমে ৬০০ থেকে ৭০০ টনের মধ্যে রয়েছে। কাঁচামালের ঘাটতি আরও বাড়লে এই উৎপাদন শূন্যে নেমে আসতে পারে। এই কারখানাটি বিসিআইসির অধীনে পরিচালিত এবং ২০০৬ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করছে।
ডিএপি কারখানার মূল কাঁচামাল অ্যামোনিয়া, যা সরবরাহ করে সিইউএফএল ও কাফকো। কিন্তু এই দুটি কারখানা বন্ধ থাকায় সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। যদিও ডিএপি উৎপাদনে সরাসরি গ্যাসের প্রয়োজন তুলনামূলক কম, তবুও অ্যামোনিয়া ছাড়া উৎপাদন সম্ভব নয়—এটাই এখন সবচেয়ে বড় সংকট।
সিইউএফএল সাধারণ সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১১০০ থেকে ১২০০ টন ইউরিয়া উৎপাদন করে। অন্যদিকে কাফকোর দৈনিক সক্ষমতা প্রায় ২০০০ টন ইউরিয়া এবং ১৫০০ টন অ্যামোনিয়া। এই দুটি বড় উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় পুরো সার সরবরাহ ব্যবস্থায় এক ধরনের ‘চেইন রিঅ্যাকশন’ তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ডিএপি উৎপাদনে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিএপি সার নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌগিক সার, যা কৃষিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে কৃষি খাতে সারের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
কখন গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু না হলে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে না। সব মিলিয়ে, গ্যাস সংকট এখন শুধু একটি জ্বালানি সমস্যা নয়—এটি দেশের সার উৎপাদন ও কৃষি খাতের জন্য বড় ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। দ্রুত সমাধান না হলে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

