দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর অনিশ্চয়তার পর অবশেষে স্বস্তির খবর এলো। পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ আন্তর্জাতিক জলসীমার পথে যাত্রা শুরু করেছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত নয়টার দিকে পারস্য উপসাগরহরমুজ পাড়ি দিচ্ছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’, স্বস্তি ফিরল নাবিকদের মাঝে থেকে নোঙর তুলে জাহাজটি হরমুজ প্রণালির দিকে এগিয়ে যায়। পরে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৫০ মিনিটে জাহাজটি সফলভাবে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করে—যা জাহাজটির জন্য একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবহাওয়া ও সামগ্রিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে শনিবার ভোররাত তিনটার মধ্যেই জাহাজটি পুরো প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হবে। বর্তমানে জাহাজটি ঘণ্টায় প্রায় ৯ নটিক্যাল মাইল গতিতে এগিয়ে চলছে।
এই যাত্রা শুধু একটি সাধারণ নৌপথ অতিক্রম নয়, বরং দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা আর উদ্বেগের অবসানও বটে। কারণ, গত কয়েক মাস ধরে নানা জটিলতা ও অনুমতির অভাবে জাহাজটি পারস্য উপসাগরেই আটকে ছিল।
ইরান কর্তৃপক্ষ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। এর পরপরই ওই অঞ্চলে অবস্থানরত শত শত জাহাজ নোঙর তুলে যাত্রা শুরু করে। এই বিশাল বহরের সামনের সারিতেই ছিল ‘বাংলার জয়যাত্রা’।
জাহাজটির ক্যাপ্টেন জানিয়েছেন, বর্তমানে কোনো ধরনের বাধা বা নিষেধাজ্ঞা না থাকায় তারা স্বাভাবিক গতিতেই এগিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে জাহাজের নাবিকদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে এসেছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ‘বাংলার জয়যাত্রা’ গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে পারস্য উপসাগরে অবস্থান করছিল। এর মধ্যে দুইবার চেষ্টা করেও হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পায়নি জাহাজটি। এমনকি গত ১১ মার্চ জাহাজটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় অনুমতি না পাওয়ায় তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর আবারও অনুমতি চাওয়া হয়, কিন্তু সেটিও নাকচ হয়ে যায়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে জাহাজটি অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়।
এই সময়ের মধ্যে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করে জাহাজটি পারস্য উপসাগরেই নোঙর করে ছিল।
এখন সব বাধা কাটিয়ে যাত্রা শুরু করায় জাহাজটির পরবর্তী গন্তব্য নির্ধারণ করা হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দর। জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিক সুস্থ ও নিরাপদ আছেন বলে জানা গেছে, এবং তাদের মধ্যে স্বস্তি ও স্বাভাবিকতার পরিবেশ ফিরে এসেছে।
সব মিলিয়ে, ‘বাংলার জয়যাত্রা’র এই অগ্রযাত্রা শুধু একটি জাহাজের গন্তব্যে পৌঁছানোর গল্প নয়—এটি প্রতিকূলতা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার এক বাস্তব উদাহরণ, যা বাংলাদেশের সামুদ্রিক সক্ষমতা ও ধৈর্যের প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকল।

