যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও ডিজিটাল অর্থায়নবিষয়ক দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। সম্মেলনের শেষ দিনে দক্ষিণ এশিয়ার বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
সমাপনী অধিবেশনে ‘যুক্তরাষ্ট্র–দক্ষিণ এশিয়া ডিজিটাল ফাইন্যান্স ও বিনিয়োগ উৎকর্ষ পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান করা হয়। এতে তিন দেশের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান ও একজন ব্যক্তি সম্মাননা পান। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ এবং ট্রাস্ট ব্যাংক এই স্বীকৃতি অর্জন করে। সম্মাননা গ্রহণ করেন বিকাশের প্রতিষ্ঠাতা কামাল কাদীর এবং ট্রাস্ট ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান।
সম্মেলনের আয়োজক ছিল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ইন সার্চ অব রুট ফাউন্ডেশন (আইএসওআরএফ)। এতে যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও নেপালসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের দুটি প্রতিষ্ঠান এবং পাকিস্তানের একটি প্রতিষ্ঠান এই সম্মাননা পায়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মাস্টারকার্ডের পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিস বারট্রান পুরস্কার গ্রহণ করেন। গ্রেটার নিউইয়র্ক চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাফে এবং পাকিস্তানের ব্যাংক অব পাঞ্জাবের প্রেসিডেন্ট জাফর মাসুদ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্মাননা নেন। এছাড়া বিশেষ সম্মাননা পান সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও লেখক ওসমান সিদ্দিকী।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ডিজিটাল ফাইন্যান্স ও নীতিনির্ধারণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এসব পুরস্কার দেওয়া হয়। সম্মাননা তুলে দেন পাকিস্তান দূতাবাসের বাণিজ্য ও বিনিয়োগবিষয়ক কর্মকর্তা হানিফ চান্না, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. সারওয়ার হোসেন এবং আইএসওআরএফের প্রেসিডেন্ট রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী।
আয়োজক সংস্থার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্মেলনের শেষ দিনে দক্ষিণ এশিয়ার বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে বাংলাদেশকে সম্ভাবনাময়, স্থিতিশীল এবং ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগবান্ধব দেশ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. সারওয়ার হোসেন দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শক্তিশালী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, স্থিতিশীল বিনিময় হার, নিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি এবং ধারাবাহিক রেমিট্যান্স প্রবাহ বাংলাদেশকে নিরাপদ বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত করেছে। পাশাপাশি, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য মুনাফা প্রত্যাবাসনের সুবিধা ও নীতিগত সহায়তা বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করছে।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে দক্ষিণ এশিয়ার বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে মতামত দেন পাঠাও ও ফিন ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা হুসাইন এম ইলিয়াস। তিনি বলেন, নেপাল ও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা তুলনামূলক সহজ। দ্রুত সম্প্রসারিত ডিজিটাল অবকাঠামো, উদ্যোক্তাবান্ধব নীতি এবং বড় বাজার বাংলাদেশের বড় শক্তি।
এছাড়া ‘যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ এশিয়ায় বিনিয়োগপ্রবাহ জোরদার: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনায় সঞ্চালনা করেন বিশ্বব্যাংকের লিড এনার্জি স্পেশালিস্ট রাইহান এলাহী। এতে সভাপতিত্ব করেন শিকাগোর সেন্ট জেভিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাহাম স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ফয়সাল এম রহমান। আলোচনায় অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্র এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা সারাহ ব্ল্যানফোর্ডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

