রাজস্ব আদায় বাড়াতে নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল ও ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন বাড়ানোর নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে এবার সরাসরি যুক্ত করা হচ্ছে জেলা প্রশাসকদের, যারা মাঠপর্যায়ে এ কার্যক্রম তদারকি করবেন।
৩ মে থেকে শুরু হওয়া জেলা প্রশাসক সম্মেলনে এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ আয়োজিত চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে রাজস্ব বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয়টি অগ্রাধিকার পাচ্ছে। আলোচনার জন্য বাছাই করা প্রস্তাবগুলোর মধ্যে এটিকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্র বলছে, জেলা পর্যায়ে যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এখনো নগদ লেনদেনে অভ্যস্ত, তাদের ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। চিকিৎসক, আইনজীবী, ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বিভিন্ন সেবা খাতকে পয়েন্ট অব সেল মেশিন ও ব্যাংকিং লেনদেনে উৎসাহিত করা হবে। পাশাপাশি বাড়িভাড়া ও দৈনন্দিন লেনদেনেও ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানো হবে।
এ উদ্যোগের আওতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ অফিস এবং পাসপোর্ট সেবার মতো খাতগুলোতেও ব্যাংকিং চ্যানেলের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা প্রশাসকরা তাদের নিজ নিজ এলাকায় এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত তদারকি করবেন।
এতদিন নাগরিকদের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করতে মূলত বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও এবার প্রশাসনিক কাঠামোকে সরাসরি যুক্ত করা হচ্ছে। এতে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থনীতিবিদ ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আয়ের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। তার মতে, অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান করযোগ্য হলেও করের বাইরে থেকে যাচ্ছে। ডিজিটাল লেনদেন বাড়লে কর ফাঁকি কমবে এবং করের আওতা বিস্তৃত হবে। তবে এ ক্ষেত্রে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং কর ব্যবস্থাকে সহজ ও আস্থাযোগ্য করা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বর্তমানে দেশে আয়কর রিটার্ন জমা দিলেও প্রকৃত করদাতার সংখ্যা তুলনামূলক কম। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, করযোগ্য মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি হলেও তার একটি বড় অংশ এখনো করের বাইরে রয়েছে। ফলে রাজস্ব আহরণ প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না।
চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসেই রাজস্ব ঘাটতি বড় আকার ধারণ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে আগামী বাজেটে রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার মনে করছে, ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো গেলে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং রাজস্ব ঘাটতি কমাতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সামগ্রিকভাবে, প্রশাসনিক তদারকি, প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন এবং নীতিগত সমন্বয়ের মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা হিসেবে এই উদ্যোগকে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

