দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা আবারও বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১০টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে একটি শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছিল, বাকি নয়টি শিশুর ক্ষেত্রে হামের উপসর্গ ছিল বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
রোববার (৩ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে সারা দেশে মোট ১ হাজার ১৬৬ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এ সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে তাদের মৃত্যু ঘটে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামের উপসর্গে মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে রাজধানী ঢাকায়। এছাড়া বরিশাল, চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেট বিভাগেও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঢাকায় একটি শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর তার মৃত্যু হয়েছে।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এই সময়ের মধ্যে দেশে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৪০ হাজারের বেশি শিশুর শরীরে। একই সময়ে প্রায় ২৮ হাজার শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে, যাদের মধ্যে একটি বড় অংশ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
তবে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, টিকাদানে ঘাটতি এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। অন্যদিকে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাজার হাজার শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিশ্চিত করেছে। আক্রান্তদের চিকিৎসা ও টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হলেও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এখনো চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম আরও বিস্তৃত না করলে এবং সচেতনতা না বাড়ালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে শিশু চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিচ্ছেন তারা।বর্তমানে সারাদেশে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

