বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে তুলতে সতর্ক ও পরিকল্পিত কৌশল নিয়েছে দিল্লি। দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা ৪০টিরও বেশি দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া আবার সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব। তাঁর মতে, এই প্রক্রিয়াগুলো পুনরায় সক্রিয় হলে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন গতি পাবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে।
নয়াদিল্লিতে সফররত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি বলেন, কিছু সময় ধরে দুই দেশের যোগাযোগের গতি ধীর ছিল, বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে। তবে এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। বাণিজ্য বাড়ানো, ভিসা সহজ করা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি—এসব বিষয়কে সামনে রেখে সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে এবং বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, যেকোনো জটিলতা কাটিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ভারত ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করছে। দুই দেশের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক বন্ধন ভবিষ্যতে আরও দৃঢ় হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পানি বণ্টনসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোও আলোচনায় এসেছে। গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, প্রায় তিন দশক ধরে কার্যকর থাকা এই চুক্তি প্রতিষ্ঠিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমেই নবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের ৫৪টি অভিন্ন নদী নিয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, এটি এখনো ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতার কারণে আটকে আছে। তবে আলোচনা চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে সমাধানের পথ খোঁজা হবে বলে আশ্বাস দেন।
সীমান্ত, ভিসা ও অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মন্তব্য বা আঞ্চলিক রাজনীতিকে বড় করে দেখার প্রয়োজন নেই। পররাষ্ট্রনীতি মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনেই পরিচালিত হয় এবং সেটিই দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি নির্ধারণ করে।
সাবেক সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেকোনো সরকারের সঙ্গেই কাজ করা একটি স্বাভাবিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়া। পাশাপাশি, বাংলাদেশের নির্বাচনে ভারতের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের অভিযোগও তিনি নাকচ করেন।
সবশেষে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ভারত এখন সম্পর্ক উন্নয়নে দ্রুত কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে ধীর, কাঠামোগত ও টেকসই অগ্রগতির পথ বেছে নিয়েছে। পারস্পরিক বিশ্বাস পুনর্গঠন, অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান এবং অর্থনৈতিক ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো—এই তিনটি বিষয়ই ভবিষ্যতের ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের মূল চালিকাশক্তি হতে পারে।

